বরগুনায় স্বপ্নের ঠিকানা পেয়ে সুবিধাভোগীদের মধ্য আনন্দের ঝিলিক

বরগুনা প্রতিনিধি;
  • প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২১, ১২:০৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ সপ্তাহ আগে

ছবি সংগৃহীত

মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান ২য় পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গত ২০ জুন সকাল ১১ টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে ৫৩ হাজার ৩ শত ৪০ পরিবারকে জমিসহ গৃহ প্রদানের ২য় পর্যায়ে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর অংশ হিসেবে মুজিববর্ষে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে বাস্তবায়নে স্বপ্নের ঠিকানা পেয়ে গৃহহীনদের চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক, এমনই দৃশ্য লক্ষ করা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলায় গৃহহীন ও ভূমিহীন উপকারভোগীদের মধ্যে। তারা কল্পনাও করেননি যে মুজিববর্ষে পাবেন জমিসহ বাড়ি। সারাদিন কায়িক পরিশ্রম শেষে এখন আর ফুটপাত বা অন্যের ঘরে ফিরতে হবে না। ভূমিহীন ও গৃহহীন হতদরিদ্রদের এখন ফিরতে পারবেন নিজ ঘরে। রয়েছে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট, সুন্দর বারান্দাসহ বসবাসের নিরাপদ সুবিধা।

মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় তাদের দেয়া হয়েছে দুই শতক জমি সহ একটি আধাপাকা স্বপ্নের ঘর। যেখানে শয়নকক্ষের পাশাপাশি থাকছে রান্নাঘর ও পয়:নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, এমন ঘর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ভূমি ও গৃহহীন পরিবার পেয়েছে। কোন অনিয়ম ছাড়াই সুন্দর ভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে স্বপ্নের ঘর।

সদর উপজেলার খেজুরতলা গ্রামে ১০০টি ঘর বরাদ্দ রয়েছে, পুরো ঘরের নির্মাণ কাজ শেষের পথে । পুরো ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এ উপহারের ঘরে থাকছে দুটি কক্ষ এছাড়াও প্রতিটা ঘরের সামনে একটি বারান্দা, টয়লেট, রান্নাঘর সহ খোলা জায়গা রয়েছে। ঘর নির্মাণের সর্বক্ষণিক তদারকি করছেন উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সামিয়া শারমিন।

মুজিব বর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনকে গৃহ, ভূমিহীনকে ভূমি দেয়ার যে ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা দিয়েছেন তা পৃথিবীতে বিরল। সরকারিভাবে একসঙ্গে কোন দেশে এতো মানুষকে গৃহ নির্মাণ করে দেয়নি এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করছেন অত্র উপজেলাবাসী। সুবিধাভোগীরা বলছেন নতুন পাওয়া ঘর ঘুরে ঘুরে দেখেছেন আধা পাকা ঘরটি তাদের খুব পছন্দ হয়েছে।

থাকার কক্ষের সঙ্গে রান্নাঘর। পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থাও ভালো। বিদ্যুৎ, পানি আছে। পরিবার নিয়ে এখন খুব ভালোভাবে থাকতে পারবেন, এরকমের পাকা ঘর নির্মাণ করে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। প্রধানমন্ত্রী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা।

মানসম্মত ইট ,বালু ,সিমেন্ট ,দিয়ে মুজিববর্ষের ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে গত ১৭নভেম্বর দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের একটি টিম নির্মাণাধীন ঘরগুলো সরোজমিনে এসে দেখভাল করেছেন। কাজের গুণগত মান ভালো দেখে উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

“মুজিববর্ষ উপলক্ষে বরগুনার গৌরিচন্না ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামে, গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়েছে দুইকক্ষ বিশিষ্ট ১০০টি সেমিপাকা ঘর, সুবিধাভোগী গৃহহীনদের দুই শতাংশ জমির মালিকানাসহ এ ঘর হস্তান্তর করা হবে। গৃহগুলো নির্মাণশৈলী ও গুণগতমান অনুমোদিত ডিজাইন প্রাক্কলন অনুযায়ী হচ্ছে। আমরা কাজগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করেছি।

ঘরগুলো ১৫থেকে ২০ দিনের মধ্যে সুবিধা ভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হবে। কোথাও সমস্যা সৃষ্টি হলে দ্রুত সেসব সমস্যা সমাধান করে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করেই নির্মাণ করা হয়েছে এইসব গৃহ। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ সম্পন্ন করে আমাদের কাজ শেষ হয়ে যায়নি, বরং আগামী দিনগুলোতে এই পরিবারগুলোর পাশে থাকতে বরগুনা উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর জানান এই কর্মকর্তা।

অসহায় মানুষের এমন অনিঃশেষ আনন্দ প্রাপ্তি পূরণই ছিল জাতির পিতার স্বপ্ন। আর তিনি এটাকে তার কর্তব্য বলে জানান। তাই আঞ্চলিক গানের কথা সুরে উপকারভোগীরা প্রধানমন্ত্রীকে গরীব দুঃখী মানুষের ‘মা জননী’ হিসাবেও আখ্যায়িত করেন।

 

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...