ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

ফরিদপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট : ০৭:৪১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ মে ২০২৩
  • / 94
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়ন ১১০নং পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করানো হচ্ছে। প্রচণ্ড তাপদাহে খোলা আকাশের নিচে পড়ালেখা করায় অর্ধেকের বেশী ছাত্র-ছাত্রী ঝরে পড়েছে। স্কুলে যাওয়া আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে নতুন ভবন নির্মাণ করায় এবং পুরাতন টিনের ঘর ভেঙে ফেলায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করায় অভিভাবকেরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১১০নং পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করেছে । ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা পড়ার পরিবেশ তৈরী না করে কিভাবে বিদ্যালয়টি ভেঙে ফেলা হল প্রশ্ন অভিভাবকের। গত রমজান মাসে বিদ্যালয়ের পুরাতন টিনের ঘর ভেঙে ফেলায় ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে বিদ্যালয়ের পাশে জনৈক মন্নু হাওলাদারের বাড়ির উঠানে পাঠদান করায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। ওই স্কুলে মোট প্রথম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ৯৮ জন ছাত্র-ছাত্রী ও ৪ জন শিক্ষিকা ছিল। উঠানে ক্লাস নেয়ার পর থেকে বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী ক্লাসে অংশ গ্রহণ করে। তারপর ও প্রচণ্ড গরম ছেলে-মেয়েরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। পড়াশোনার পরিবেশ দেখে সবাই চমকে উঠে হতভাগ হয়ে পড়ে।

অভিভাবকেরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, এধরনের কাজের সাথে যাহারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জোর দাবি জানায়।

এবিষয় আজিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাজাহান হাওলাদার জানান, এই পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাথে আমার বাড়ি। সেখানে শুরু থেকে একটি পুরাতন টিনের ঘর ছিল। নতুন ভবন বরাদ্দ হওয়ায় পর পুরাতন টিনের ঘরটি ভেঙে ফেলি। সব মালামাল আমি যত্ন সহকারে রেখেছি। আমার জায়গায় বিদ্যালয়ের পুরাতন কাঠ ও টিন দিয়ে আমার খরচে একটি ঘর নির্মাণ করে দিব। এখানে ছাত্র ছাত্রীরা আপাতত ক্লাস করবে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা লাভলী আক্তার জানান, দীর্ঘদিন ধরে টিনের ঘরে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। তার পর ২০১৩ সালে স্কুলটি এমপিও ভুক্ত হয়। ২০২২ সালে নতুন ৪তলা ফাউন্ডেশন করে একটি ১তলা ভবন বরাদ্দ পাই। এরপর চেয়ারম্যান পুরাতন স্কুলটি ভেঙে ফেলে। যে কারণে অন্যের বাড়িতে খোলা আকাশের নিচে লেখাপড়ায় সবার কষ্ট হচ্ছে; তারপর অনেক গরমে আমাদের ছেলে মেয়েরা দুর্ভোগে পড়েছে। চেয়ারম্যান পুরাতন স্কুল ঘরটি ভেঙেছে। সে ইচ্ছে করলে ৭ দিনের মধ্যে ঘর উঠাতে পারে। আমার কিছু করার নাই।

ভাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহসিন রেজা জানান, আমি ভাঙ্গায় নতুন এসেছি এবং গত ফেব্রুয়ারিতে জয়েন্ট করেছি। ছেলে মেয়েরা খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করছে আমি কিছু জানতাম না। আপনারা ওই বিদ্যালয়ে গেছেন শুনে আমি ও ইউএনও মহাদয় তার পরপরই সরেজমিনে গিয়েছি। খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করা দেখে আমি ক্ষুব্ধ হয়েছি। তবে কারো কাছ থেকে কোন অনুমতি না নিয়ে কিভাবে পুরাতন স্কুল ঘর ভাঙা হল সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক তার দায় এড়াতে পারেন না।

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজিমউদ্দিন জানান, শুনেছি চেয়ারম্যান স্কুলটি ভেঙে ফেলছে এবং তার জায়গায় আরেকটি ঘর করে দিবে। বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া কষ্ট হলেও আগামী সপ্তাহে সমাধান হবে আশা করছি।

ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, এমপি মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী সে পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবন এনে দিয়েছে। দীর্ঘদিন হয় এলজিডি স্কুলে ভরনের পাইলিং কাজ করতে দেরি করছে। বিদ্যালয়ে ঘর ভাঙা ও গাছ বিক্রি করার বিষয় তিনি কিছুই জানেন না। ছাত্র ছাত্রীরা খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করছে তাও জানি না। আমি আপনাদের কাছ থেকে শুনলাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ফরিদপুরে খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

আপডেট : ০৭:৪১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ মে ২০২৩
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়ন ১১০নং পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করানো হচ্ছে। প্রচণ্ড তাপদাহে খোলা আকাশের নিচে পড়ালেখা করায় অর্ধেকের বেশী ছাত্র-ছাত্রী ঝরে পড়েছে। স্কুলে যাওয়া আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে নতুন ভবন নির্মাণ করায় এবং পুরাতন টিনের ঘর ভেঙে ফেলায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করায় অভিভাবকেরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১১০নং পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করেছে । ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা পড়ার পরিবেশ তৈরী না করে কিভাবে বিদ্যালয়টি ভেঙে ফেলা হল প্রশ্ন অভিভাবকের। গত রমজান মাসে বিদ্যালয়ের পুরাতন টিনের ঘর ভেঙে ফেলায় ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে বিদ্যালয়ের পাশে জনৈক মন্নু হাওলাদারের বাড়ির উঠানে পাঠদান করায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। ওই স্কুলে মোট প্রথম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ৯৮ জন ছাত্র-ছাত্রী ও ৪ জন শিক্ষিকা ছিল। উঠানে ক্লাস নেয়ার পর থেকে বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী ক্লাসে অংশ গ্রহণ করে। তারপর ও প্রচণ্ড গরম ছেলে-মেয়েরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। পড়াশোনার পরিবেশ দেখে সবাই চমকে উঠে হতভাগ হয়ে পড়ে।

অভিভাবকেরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, এধরনের কাজের সাথে যাহারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জোর দাবি জানায়।

এবিষয় আজিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাজাহান হাওলাদার জানান, এই পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাথে আমার বাড়ি। সেখানে শুরু থেকে একটি পুরাতন টিনের ঘর ছিল। নতুন ভবন বরাদ্দ হওয়ায় পর পুরাতন টিনের ঘরটি ভেঙে ফেলি। সব মালামাল আমি যত্ন সহকারে রেখেছি। আমার জায়গায় বিদ্যালয়ের পুরাতন কাঠ ও টিন দিয়ে আমার খরচে একটি ঘর নির্মাণ করে দিব। এখানে ছাত্র ছাত্রীরা আপাতত ক্লাস করবে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা লাভলী আক্তার জানান, দীর্ঘদিন ধরে টিনের ঘরে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। তার পর ২০১৩ সালে স্কুলটি এমপিও ভুক্ত হয়। ২০২২ সালে নতুন ৪তলা ফাউন্ডেশন করে একটি ১তলা ভবন বরাদ্দ পাই। এরপর চেয়ারম্যান পুরাতন স্কুলটি ভেঙে ফেলে। যে কারণে অন্যের বাড়িতে খোলা আকাশের নিচে লেখাপড়ায় সবার কষ্ট হচ্ছে; তারপর অনেক গরমে আমাদের ছেলে মেয়েরা দুর্ভোগে পড়েছে। চেয়ারম্যান পুরাতন স্কুল ঘরটি ভেঙেছে। সে ইচ্ছে করলে ৭ দিনের মধ্যে ঘর উঠাতে পারে। আমার কিছু করার নাই।

ভাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহসিন রেজা জানান, আমি ভাঙ্গায় নতুন এসেছি এবং গত ফেব্রুয়ারিতে জয়েন্ট করেছি। ছেলে মেয়েরা খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করছে আমি কিছু জানতাম না। আপনারা ওই বিদ্যালয়ে গেছেন শুনে আমি ও ইউএনও মহাদয় তার পরপরই সরেজমিনে গিয়েছি। খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করা দেখে আমি ক্ষুব্ধ হয়েছি। তবে কারো কাছ থেকে কোন অনুমতি না নিয়ে কিভাবে পুরাতন স্কুল ঘর ভাঙা হল সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক তার দায় এড়াতে পারেন না।

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজিমউদ্দিন জানান, শুনেছি চেয়ারম্যান স্কুলটি ভেঙে ফেলছে এবং তার জায়গায় আরেকটি ঘর করে দিবে। বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া কষ্ট হলেও আগামী সপ্তাহে সমাধান হবে আশা করছি।

ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, এমপি মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী সে পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবন এনে দিয়েছে। দীর্ঘদিন হয় এলজিডি স্কুলে ভরনের পাইলিং কাজ করতে দেরি করছে। বিদ্যালয়ে ঘর ভাঙা ও গাছ বিক্রি করার বিষয় তিনি কিছুই জানেন না। ছাত্র ছাত্রীরা খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করছে তাও জানি না। আমি আপনাদের কাছ থেকে শুনলাম।