বৈধ অস্ত্র ব্যবসার আড়ালে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের সিন্ডিকেট

অনলাইন ডেস্ক;
  • প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২১, ১:৩০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৪ সপ্তাহ আগে

ছবি সংগৃহীত

বৈধ অস্ত্র ব্যবসার আড়ালে তারা সন্ত্রাসীদের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করতো অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। এ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রামের এক অস্ত্র ব্যবসায়ীসহ চার অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, চক্রটি বৈধ অস্ত্র ব্যবসার আড়ালে অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান করতো। ঢাকা ও চট্টগ্রামের অস্ত্র ব্যবসায়ীরা রাঙামাটি বরকল সীমান্ত দিয়ে ভারতের মিজোরাম থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে অস্ত্র-গুলি এনে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলসহ ঢাকা ও কক্সবাজারে বিক্রি করতো।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. হোসেন, লাল তন পাংখোয়া, মো. আলী আকবর ও মো. আদিলুর রহমান সুজন।

পুলিশ জানায়, রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তারের সময় ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩০১ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।

সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ী থানার জনপথ মোড়ের সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে শ্যামলী ৬নং বাস কাউন্টারের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি অবৈধ অস্ত্র-গুলি বেচাকেনার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মোহাম্মদ হোসেনের চট্টগ্রামে একটি বৈধ অস্ত্রের দোকান রয়েছে। এ দোকান ব্যবহার করে তিনি অবৈধ অস্ত্র ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে চড়া দামে বিক্রি করতেন।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হোসেন ও লাল তন পাংখোয়া ছাড়াও ঢাকার অস্ত্র ব্যবসায়ী স্বপনসহ বিভিন্ন অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের থেকে অস্ত্র-গুলি কিনে থাকে। এরপর আকবর ও আদিলুরের মাধ্যমে কক্সবাজার এলাকার বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠি এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতো।

সিটিটিসির এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার লাল তন পাংখোয়া রাঙামাটি বরকল সীমান্ত দিয়ে ভারতের মিজোরাম থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে অস্ত্র-গুলি নিয়ে এসে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলসহ ঢাকা ও কক্সবাজার এলাকায় সেগুলো বিক্রি করতো।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, গ্রেপ্তার আকবর ও আদিলুর রহমান সুজন হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তারা দীর্ঘদিন ধরে হোসেনের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র-গুলি কিনে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠি ও ব্যক্তির কাছ বিক্রি করতো।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সারাদেশে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবসা যারা পরিচালনা করে তাদেরকে নজরদারিতে আনা হবে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...