অনলাইনে জঙ্গিবাদ, আরও একজন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০২১, ১২:১৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে

ছবি সংগৃহীত

অনলাইনে জঙ্গিবাদ প্রচারণার কথিত ‘ত্রিরত্ন’এর একজন হাসিবুর রহমান ওরফে আযযাম আল গালিব (২১) কে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিস)।

সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সিটিটিসির প্রধান আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান। সিটিটিস দাবি করেছে তাকে গ্রেপ্তার করায় অনলাইনে জঙ্গিবাদ প্রচারণা ৮০ শতাংশ কমবে ।

সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান জানান, ১৪ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরা-পূর্ব থানা এলাকা থেকে হাসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হাসিবুরের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর মহিপুর এলাকায়। তার বাবার নাম হাবিবুর রহমান। সে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এলএলবি’র শিক্ষার্থী।

এর আগে অনলাইন প্রচারণার ত্রিরত্নের দুই রত্ন আল আমিন সিদ্দিকী ও নারী সদস্য জোবায়দা সিদ্দিকী নাবিলাকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি।

আসাদুজ্জামান জানান, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আনসার আল ইসলামের মতাদর্শের বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার ও দ্রুত শরিয়া আইন চালু করতে এই ত্রিরত্ন বিভিন্ন প্রচারণা চালাতো।

তিনি জানান, হাসিবুর নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের অনলাইন দাওয়াহ শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিল। সে ২০১৬ সালে এসএসসি পাস করে ঢাকায় অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়। এ সময় সে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। সে উগ্রবাদের বিভিন্ন বই পড়তে থাকে।

সিটিটিসি প্রধান জানান, প্রথমে সে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম এবং আন্তর্জাতিক সহিংস উগ্রবাদী সংগঠন আল কায়েদার আদর্শ ও মতবাদ প্রচারকারী ফেসবুক আইডি ‘জামিল হাসান’ ও ‘জামশেদ হোসেইনের’ সঙ্গে যুক্ত হয়। এই আইডি দুটিতে তালেবান ও আল কায়েদার বিভিন্ন লেখালেখি হতো। তাদের বিভিন্ন সংবাদ প্রচার করা হতো। হাসিবুর রহমান তাদের লেখা ও মতাদর্শে আগ্রহী হয়।

তিনি জানান, ২০১৯ সালের দিকে হাসিবুর রহমান আল কায়েদা ও আনসার আল ইসলামের মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে নিজেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি শুরু করে। এসব লেখালেখির জন্য সে ‘আযযাম আল গালিব’ নামে ফেসবুক আইডি খোলে। এই নামে সে একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল খুলে ফেসবুক ও টেলিগ্রামে আনসার আল ইসলাম ও আল কায়েদার সমর্থনে লেখালেখি শুরু করে। পাশাপাশি ফেসবুকে মুয়াহিদ মুসলিম নামে আরও একটি পেজ ওপেন করে। সেখানে সে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করে। সদস্য সংগ্রহ করতে থাকে। এই পেজটি থেকে উগ্র মতবাদ ছড়ানোর অভিযোগে বিভিন্ন সময় তার পেটি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ডিজেবল করে রাখে।

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সর্বশেষ সে ‘আব্দুল্লাহ গালিব আযযাম’ নামে একটি ফেসবুক আইডি ব্যবহার করতো। কারাগারে আটক আনসার আল ইসলামের সদস্যদের জামিনের জন্য সে গোপনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহেরও কাজ করতো। গ্রেপ্তারকৃত হাসিবুর রহমানের সঙ্গে টেলিগ্রামে একই মতাদর্শ প্রচারে ‘জায়েদ ইবনে আলী’ ও ‘শাফায়েত মুসান্ন ইসা’ আইডির যোগাযোগ হয়। তারা একসঙ্গে সংগঠনের প্রচার প্রচারণা, সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করে। হাসিবুর রহমান ‘জায়েদ ইবনে আলী’ ও ‘শাফায়েত মুসান্না ইসার’ সঙ্গে আনসার আল ইসলামের মতদর্শ প্রচারের তথাকথিত ‘ত্র-রত্ন’র প্রধান হিসেবে অনলাইন র‌্যাডিক্যালাইজেশনের নেতৃত্ব দেয়।

সাম্প্রতিক ‘জায়েদ ইবনে আলী’ ও ‘শাফায়েত মুসান্না ইসা’ আইডি পরিচালনাকারী আল আমিন সিদ্দিবী এবং নারী জঙ্গি জোবায়দা সিদ্দিকা নাবিলা এর আগে সিটিটিসির হাতে গ্রেপ্তার হয়।’

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...