৫ হাজার চুরির সঙ্গে জড়িত সাঈদ, স্ত্রী-সন্তান থাকেন লন্ডনে

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

ছবি সংগৃহীত

মো. সাহেদ ওরফে সিলেটি সাঈদ। গার্মেন্টস পণ্য চোর চক্রের মূল হোতা। তার পরিকল্পনায় ও যোগসাজশে চার থেকে পাঁচ হাজার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ২৪টি মামলাও হয়েছে।

চুরির অর্থ দিয়ে গড়েছেন অসংখ্য বাড়ি, গাড়ি। রয়েছে শত শত ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান। মৌলভীবাজারে রয়েছে বিশাল অট্টালিকা। স্ত্রী সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন লন্ডনে। সম্প্রতি আট মাস কারাভোগ শেষে বেরিয়েই আবার যুক্ত হন চোরাই কারবারে।

সোমবার দুপুরে ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর নেটওয়ার্ক ক্লোথিং লিমিটেড নামক গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানের ১৭ হাজার ১৫২ পিস তৈরি পোশাক বিদেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে নেওয়ার পথে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা হয়।

ওই ঘটনায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গার্মেন্ট পণ্য চুরি সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতা ‘সিলেটী সাঈদ’সহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের একটি টিম। রাজধানীর উত্তরা এবং কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন- রাজ্জাক, ইউসুফ, মাইনুল, আলামিন, দুলাল হোসেন ও খায়রুল। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪ হাজার ৭০৫ পিস গার্মেন্টস তৈরি পোশাকসহ দুটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়।

হাফিজ আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ পরিবহনে যুক্ত ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, এজেন্সি, চালক ও শ্রমিকদের যোগসাজশে গার্মেন্টস পণ্য চুরি করছিল সংঘবদ্ধ চোরাই চক্র। এই চক্রের জন্য বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সুনাম নষ্ট হচ্ছিল।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, গত ১১ মে জয়ন্তি নিট ওয়্যার লি. তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ২৮ হাজার ৮২০ পিস পণ্য শিপমেন্ট করতে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে পাঠায়। বিদেশে মালামাল পৌছার পর জানা যায়, ওই শিপমেন্টে ১১ হাজার পণ্য কম। এজন্য বিদেশি বায়ার প্রতিষ্ঠানটিকে ২৮ হাজার ৯০৮ ডলার জরিমানা করে। এতে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়। ওই ঘটনায় ১৭ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ। এ পরিপ্রেক্ষিতে ইমরান, মোবারক ও ইব্রাহিম নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর নেটওয়ার্ক ক্লোথিং লিমিটেড নামক গার্মেন্টসের তৈরি পোশাক ১ হাজার ৪৩১ কার্টনে মোট ১৭ হাজার ১৫২ পিস বিদেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে যায়। মালামাল শিপমেন্টের সময় গণনাকালে ৫ হাজার পিস মাল কম পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা রুজু হয়। তেজগাঁও জোনাল টিম তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঢাকা মহানগরীর উত্তরা এলাকা চোরাই গার্মেন্ট মালামাল ও একটি কাভার্ড ভ্যানসহ রাজ্জাক, ইউসুফ, খায়রুল ও মাইনুলকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের দেয়া তথ্যমতে, কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার নিমসার এলাকা হতে চোরাই গার্মেন্ট মালামাল ও একটি কাভার্ড ভ্যানসহ আল-আমিন ও দুলালকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে পুরো চক্রের মূল হোতা মো. সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পোশাক পণ্য চুরি ঠেকাতে গোয়েন্দা পুলিশের সুপারিশ-

১) পণ্য পরিবহনের সময় গার্মেন্টসের নিজস্ব পরিবহন ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান ব্যবহার করা।

২) এজেন্সির ট্রাক/কাভার্ডভ্যান ভাড়া করা হলে চালকের পরিচয়পত্র/ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি রাখা এবং

চালকের ছবি তুলে পোর্টে সিএন্ডএফ এজেন্টকে Whatsapp-এ পাঠিয়ে দেওয়া। একই চালক কি না,

সেটা সিএন্ডএফ এজেন্ট যাচাই করবে। 

৩) সম্ভব হলে এস্কট করে পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যান পোর্টে পৌঁছানো।

৪) ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান কোথাও থামল কি না, তা দেখার জন্য ট্রাক/কাভার্ড ভ্যানে জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার ও মনিটরিং করা।

৫) বৈধ ও প্রতিষ্ঠিত ট্রান্সপোর্টের গাড়ি ব্যবহার করা।

৬) পোর্টে পৌঁছানোর পর সিএন্ডএফ এজেন্ট যাতে লাগাতার কয়েকটা কার্টুন চেক করে এবং স্কেলে ওজন পরিমাপ করে, তার ব্যবস্থা করা এবং

৭) এ রকম ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করা।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...