ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের অসন্তোষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট : ০৭:৪৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মে ২০২১
  • / 206

ফাইল ফটো

::চট্টগ্রাম প্রতিনিধি::

বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দফা বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। শনিবার থেকে নতুন দামে তেল বিক্রির কথা থাকলেও রাত পোহানোর সাথে সাথেই ওই দাম জুড়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দফায় দফায় ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা করোনা প্রভাব বলে দাবি করলেও ব্যবসায়ীদের চালাকি বলে মনে করছেন ভোক্তারা।

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা যায়, একদিনের ব্যবধানে লিটার প্রতি ৯ থেকে ১১ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম। কেজি প্রতি ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১২৯ থেকে ১৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কোম্পানি ভেদে বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৫৩ থেকে ১৫৫ টাকা, পাম সুপার তেল ১১২ থেকে ১১৫ টাকা এবং ৫ লিটার সয়াবিন তেলের বোতল ৭২০ থেকে ৭৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জের তেল ব্যবসায়ী আবুল বশর বলেন, মোকামে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে তেলের দাম বাড়তি। বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিলিয়ে মোকাম মালিকরা তেলের দাম নির্ধারণ করে থাকেন। তাদের নির্ধারিত দামে আমাদের বিক্রি করতে হয়।

দফায় দফায় দাম বাড়ানোর বিষয়ে বাজারে আসা ত্রেতা সুমন বড়ুয়া বলেন, ‘গতকাল আবারো তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। শুধু তেল নয়, সব পণ্যেরই দাম এখন বাড়তি। আমরা মধ্যবিত্তরা পরিবার নিয়ে টিকে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।’

এদিকে সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো ফুলকপি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে শসা, বেগুন, পটল, ঢেঁড়সের দামও বেড়েছে। মানভেদে শসার বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৫ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে। পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ঢেঁড়সের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। গত সপ্তাহে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটির দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩০ টাকা হালি বিক্রি হওয়া কাঁচকলার দাম বেড়ে ৪০ টাকা হয়েছে।

একইভাবে গাজরের দাম ৪০ থেকে ৫০ বেড়ে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, পাকা টমেটোর কেজি প্রায় ১০ টাকা বেড়ে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, ঝিঙে আগের মতো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাউয়ের পিস বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। এক কেজি কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। উস্তের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। প্রতিকেজি শুকনা মরিচ ১৮০ টাকা, হলুদ ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ডিমের হালি ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে দেখা যায়, প্রতিকেজি কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা, টেংরা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, রুই ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, টাকি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে।

এছাড়া বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগী ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা, লেয়ার মুরগী ২৪০ টাকায় ও সোনালী কক মুরগী ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি গরুর মাংস ৫৮০ টাকায় এবং খাসির মাংস মিলছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ৯ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় তেল পরিশোধন ও বিপণনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের অসন্তোষ

আপডেট : ০৭:৪৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মে ২০২১
::চট্টগ্রাম প্রতিনিধি::

বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দফা বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। শনিবার থেকে নতুন দামে তেল বিক্রির কথা থাকলেও রাত পোহানোর সাথে সাথেই ওই দাম জুড়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দফায় দফায় ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা করোনা প্রভাব বলে দাবি করলেও ব্যবসায়ীদের চালাকি বলে মনে করছেন ভোক্তারা।

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা যায়, একদিনের ব্যবধানে লিটার প্রতি ৯ থেকে ১১ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম। কেজি প্রতি ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১২৯ থেকে ১৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কোম্পানি ভেদে বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৫৩ থেকে ১৫৫ টাকা, পাম সুপার তেল ১১২ থেকে ১১৫ টাকা এবং ৫ লিটার সয়াবিন তেলের বোতল ৭২০ থেকে ৭৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জের তেল ব্যবসায়ী আবুল বশর বলেন, মোকামে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে তেলের দাম বাড়তি। বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিলিয়ে মোকাম মালিকরা তেলের দাম নির্ধারণ করে থাকেন। তাদের নির্ধারিত দামে আমাদের বিক্রি করতে হয়।

দফায় দফায় দাম বাড়ানোর বিষয়ে বাজারে আসা ত্রেতা সুমন বড়ুয়া বলেন, ‘গতকাল আবারো তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। শুধু তেল নয়, সব পণ্যেরই দাম এখন বাড়তি। আমরা মধ্যবিত্তরা পরিবার নিয়ে টিকে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।’

এদিকে সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো ফুলকপি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে শসা, বেগুন, পটল, ঢেঁড়সের দামও বেড়েছে। মানভেদে শসার বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৫ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে। পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ঢেঁড়সের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। গত সপ্তাহে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটির দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩০ টাকা হালি বিক্রি হওয়া কাঁচকলার দাম বেড়ে ৪০ টাকা হয়েছে।

একইভাবে গাজরের দাম ৪০ থেকে ৫০ বেড়ে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, পাকা টমেটোর কেজি প্রায় ১০ টাকা বেড়ে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, ঝিঙে আগের মতো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাউয়ের পিস বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। এক কেজি কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। উস্তের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। প্রতিকেজি শুকনা মরিচ ১৮০ টাকা, হলুদ ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ডিমের হালি ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে দেখা যায়, প্রতিকেজি কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা, টেংরা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, রুই ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, টাকি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে।

এছাড়া বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগী ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা, লেয়ার মুরগী ২৪০ টাকায় ও সোনালী কক মুরগী ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি গরুর মাংস ৫৮০ টাকায় এবং খাসির মাংস মিলছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ৯ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় তেল পরিশোধন ও বিপণনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।