ঢাকা ০১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ফারইস্টের খালেকের ১৫০ কোটি টাকার বাড়ি জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৫:৪২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৩
  • / 30
ব্যাংক, বীমা, শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করে দেশে-বিদেশে বাড়ি-গাড়িসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন ফারইস্ট বন্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ খালেক ও তার পরিবার। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি অর্থ লোপাট করে পাচার করেছেন বিদেশে। সিআইডি এমএ খালেকের ৫১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে তার বিপুল অর্থ কেলেঙ্কারির নতুন নতুন তথ্য খুঁজে পায়। এই অর্থ তিনি বিদেশে পাচার করে সেখানে প্রচুর সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তার স্ত্রী-সন্তানরা কানাডায় বসবাস করেন।

এমএ খালেকের এ অর্থ কেলেঙ্কারির ব্যাপারে ঢাকা স্পেশাল জজকোর্টে সিআইডি এক তদন্ত প্রতিবেদনে জানায় যে, খালেক ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট করেছেন। লুটপাটের টাকার একটি বড় অংশ পাচার করেছেন বিদেশে। সিআইডি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, যে লুটপাটের টাকায় বারিধারায় ১৫০ কোটি টাকা মূল্যের চারতলা একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এ বিষয়ে সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর স্পেশাল জজ আদালত এই বাড়িটি জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে সিআইডিকে এই বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের আদেশ দেন। আদালত একইসঙ্গে এ আদেশ সরকারি গেজেটসহ দৈনিক বাংলাদেশের আলো ও দ্য ডেইলি ভয়েস অব এশিয়া পত্রিকায় প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, এম এ খালেক অর্থ আত্মসাতের মামলায় গতবছরের সেপ্টেম্বর থেকে জেলে আছেন।

আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদন অনুযায়ী এমএ খালেক বিভিন্নভাবে আনুষ্ঠানিক পদে ছিলেন এমন প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইম ব্যাংক, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লি. প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল লি. পিএফআই সিকিউরিটিজ, প্রাইম ইন্সুরেন্স কোম্পানি, প্রাইম ইসলামি লাইফ ইন্সুরেন্স, প্রাইম ইসলামি সিকিউরিটিজ, ফারইস্ট ইসলামি লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি ও ফারইস্ট স্টক অ্যান্ড বন্ড লি.। বিভিন্নভাবে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা সরানোর সত্যতা বেরিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা অন্যান্য উচ্চপদে অধিষ্ঠিত থেকে প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনেক সময় শেয়ার ব্যাবসার নামে এম এ খালেক ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে তার টাকা সরিয়েছেন। পরিবারের সদস্য এমনকি কর্মচারীদের নামেও নিয়েছেন টাকা। লুটপাটের কৌশলের বিষয়ে জানা যায়, কোনো রকম অর্থ পরিশোধ না করেই খালেকের পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের বিও অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা জমা দেখানো হতো। খালেকের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এভাবে টাকা জমা করতেন। পরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিতেন। ফলে প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা থাকা শেয়ার ব্যবসায়ীদের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। একইভাবে প্রাইম সিকিউরিটি থেকে, প্রাইম ইসলামি লাইফ থেকে, ফারইস্ট ইন্সুরেন্স থেকেও হাজার কোটি টাকা সরিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ম্যাকসন্স বাংলাদেশ, ম্যাকসন্স বে লি. গ্যাটকো, গ্যাটকো অ্যাগ্রোভিশন, গ্যাটকো টেলিকমিউনিকেশনসহ বিভিন্ন নামে হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন তিনি।

সিআইডির কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রতিষ্ঠানের সাবেক চেয়ারম্যান সাবিনা খালেক, ছেলে শাহরিয়ার খালেক, মেয়ে শরৎ খালেক, মেয়ের স্বামী তানভীর হক ও মেয়ের শ্বশুর ফজলুল হকসহ সহযোগীদের মাধ্যমে বিপুল অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। স্বজন ছাড়াও খালেক তার সহযোগীদের বিও অ্যাকাউন্টে ভুয়া ডিপোজিট দেখিয়ে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কৌশলে বিভিন্ন জনের জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়েও ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন খালেক। অনেকেই জানতে পারেননি তাদের নামে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। খালেকের লুটপাটের ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারী সর্বস্ব হারিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, এম এ খালেক বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ফারইস্টের খালেকের ১৫০ কোটি টাকার বাড়ি জব্দ

আপডেট : ০৫:৪২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৩
ব্যাংক, বীমা, শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করে দেশে-বিদেশে বাড়ি-গাড়িসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন ফারইস্ট বন্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ খালেক ও তার পরিবার। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি অর্থ লোপাট করে পাচার করেছেন বিদেশে। সিআইডি এমএ খালেকের ৫১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে তার বিপুল অর্থ কেলেঙ্কারির নতুন নতুন তথ্য খুঁজে পায়। এই অর্থ তিনি বিদেশে পাচার করে সেখানে প্রচুর সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তার স্ত্রী-সন্তানরা কানাডায় বসবাস করেন।

এমএ খালেকের এ অর্থ কেলেঙ্কারির ব্যাপারে ঢাকা স্পেশাল জজকোর্টে সিআইডি এক তদন্ত প্রতিবেদনে জানায় যে, খালেক ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট করেছেন। লুটপাটের টাকার একটি বড় অংশ পাচার করেছেন বিদেশে। সিআইডি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, যে লুটপাটের টাকায় বারিধারায় ১৫০ কোটি টাকা মূল্যের চারতলা একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এ বিষয়ে সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর স্পেশাল জজ আদালত এই বাড়িটি জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে সিআইডিকে এই বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের আদেশ দেন। আদালত একইসঙ্গে এ আদেশ সরকারি গেজেটসহ দৈনিক বাংলাদেশের আলো ও দ্য ডেইলি ভয়েস অব এশিয়া পত্রিকায় প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, এম এ খালেক অর্থ আত্মসাতের মামলায় গতবছরের সেপ্টেম্বর থেকে জেলে আছেন।

আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদন অনুযায়ী এমএ খালেক বিভিন্নভাবে আনুষ্ঠানিক পদে ছিলেন এমন প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইম ব্যাংক, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লি. প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল লি. পিএফআই সিকিউরিটিজ, প্রাইম ইন্সুরেন্স কোম্পানি, প্রাইম ইসলামি লাইফ ইন্সুরেন্স, প্রাইম ইসলামি সিকিউরিটিজ, ফারইস্ট ইসলামি লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি ও ফারইস্ট স্টক অ্যান্ড বন্ড লি.। বিভিন্নভাবে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা সরানোর সত্যতা বেরিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা অন্যান্য উচ্চপদে অধিষ্ঠিত থেকে প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনেক সময় শেয়ার ব্যাবসার নামে এম এ খালেক ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে তার টাকা সরিয়েছেন। পরিবারের সদস্য এমনকি কর্মচারীদের নামেও নিয়েছেন টাকা। লুটপাটের কৌশলের বিষয়ে জানা যায়, কোনো রকম অর্থ পরিশোধ না করেই খালেকের পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের বিও অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা জমা দেখানো হতো। খালেকের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এভাবে টাকা জমা করতেন। পরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিতেন। ফলে প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা থাকা শেয়ার ব্যবসায়ীদের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। একইভাবে প্রাইম সিকিউরিটি থেকে, প্রাইম ইসলামি লাইফ থেকে, ফারইস্ট ইন্সুরেন্স থেকেও হাজার কোটি টাকা সরিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ম্যাকসন্স বাংলাদেশ, ম্যাকসন্স বে লি. গ্যাটকো, গ্যাটকো অ্যাগ্রোভিশন, গ্যাটকো টেলিকমিউনিকেশনসহ বিভিন্ন নামে হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন তিনি।

সিআইডির কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রতিষ্ঠানের সাবেক চেয়ারম্যান সাবিনা খালেক, ছেলে শাহরিয়ার খালেক, মেয়ে শরৎ খালেক, মেয়ের স্বামী তানভীর হক ও মেয়ের শ্বশুর ফজলুল হকসহ সহযোগীদের মাধ্যমে বিপুল অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। স্বজন ছাড়াও খালেক তার সহযোগীদের বিও অ্যাকাউন্টে ভুয়া ডিপোজিট দেখিয়ে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কৌশলে বিভিন্ন জনের জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়েও ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন খালেক। অনেকেই জানতে পারেননি তাদের নামে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। খালেকের লুটপাটের ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারী সর্বস্ব হারিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, এম এ খালেক বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।