ডিজিটাল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা উন্মোচনে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করলো জিপি 

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর ২০২১, ১২:২১ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে

ছবি সংগৃহীত

অনলাইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গ্রামীণফোনের ইন-হাউস স্কিল অ্যাকাডেমি থেকে আজ গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করলো ‘জিপি এক্সপ্লোরারস’ ব্যাচ ২। এই ব্যাচে রয়েছেন ৪০ শতাংশেরও নারী শিক্ষার্থী, যাদের বেশিরভাগই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক অ্যাকাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডের। ভবিষ্যতের দক্ষ প্রফেশনাল হিসেবে গড়ে উঠার লক্ষ্যে এই প্রোগ্রামটি তাদের জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাননীয় মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিটিআরসি’র ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র, গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমান ও প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার হোসেন সাদাত। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতা বিকাশে প্রধান অতিথির দৃষ্টিভঙ্গির সাথে এ প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য সঠিকভাবে প্রতিধ্বনিত হয়।

জিপি এক্সপ্লোরারস একটি বিশেষ ডিজিটাল স্কিলস অ্যাকাডেমি, যার লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার মধ্যে ব্যবধান দূর করে সফট ও ডিজিটাল দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে তাদের প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আপস্কিল ও দক্ষ করে তোলা। জিপি একপ্লোরারসের এবারের আয়োজনে ৬৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬শ’র বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেন, যার মধ্যে ৩৫৭ জন শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হয়।

২০ সপ্তাহব্যাপী এ আপস্কিলিং প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক জ্ঞানের সাথে তাদের যোগাযোগ দক্ষতা, উদ্যোক্তা মানসিকতা এবং ডিজিটাল দক্ষতার ওপর আলোকপাত করা হয়। ক্রাউডসোর্সড লার্নিং মডেলের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে এ প্রোগ্রামে রয়েছে বিশেষায়িত কনটেন্ট, অ্যাসাইনমেন্ট এবং খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত সেশন।

জিপি এক্সপ্লোরারসের এবারের আয়োজনে ৩৯ জন শিক্ষার্থী ডিজিটাল মার্কেটিং, ১৩৫ জন শিক্ষার্থী অন্টারপ্রনারশিপ মাইন্ডসেট এবং ২৪৫ জন শিক্ষার্থী প্রফেশনাল কমিউনিকেশনে সনদ অর্জন করেন। নিয়মিত প্রোগ্রামের পাশাপাশি, এক্সপ্লোরাররা মাস্টারক্লাসের মাধ্যমে শীর্ষস্থানীয় নের্তৃবৃন্দের সাথে আলোচনার সুযোগ পান। কানেক্টিভিটির শক্তি ব্যবহার করে অর্জিত দক্ষতা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে এটি ছিল একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।

এক্সপ্লোরাররা ইউএনডিপি’র রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সুদীপ্ত মুখার্জী, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ড. রুবানা হক, এটিঅ্যান্ডটি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট রিদওয়ান কবির এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাভেদ আখতারের মতো বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানার সুযোগ পান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাননীয় মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, “যেকোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য থাকে ব্যবসা করা বা মুনাফা অর্জন। এর বাইরেও প্রতিষ্ঠানের সমাজ, রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি কিছু অঙ্গীকার রয়েছে। গ্রামীণফোন জিপি এক্সপ্লোরারসের মাধ্যমে এই অঙ্গীকার পূরণ করছে, ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষতার মাধ্যমে তরুণদের আপস্কিল করছে এবং আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ লক্ষ্যপূরণে এগিয়ে যেতে ভূমিকা রাখছে।

জিপি এক্সপ্লোরারস থেকে অর্জিত জ্ঞান তাদের জীবনের একটি বড় ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আমি মনে করি। ডিজিটালাইজেশনের সুবিধা পেতে মূল্যবান এ জ্ঞান প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সহ সবার জন্য সহজলভ্য করা উচিত। এ প্রোগ্রাম থেকে গ্র্যাজুয়েটদের আমার অভিনন্দন এবং নিজেদের বিভিন্ন উদ্যোগে আমাকে সম্পৃক্ত করার জন্য আমি গ্রামীণফোনকে ধন্যবাদ জানাই।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিটিআরসি’র ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র বলেন, “শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আপনি অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল করতে পারেন, কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে আপনাকে নিজেকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে এবং দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

গ্রামীণফোন এর জিপি এক্সপ্লোরারস ২.০ এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের সঠিক উপায়ে গড়ে তুলতে পেরেছে এবং এই প্রোগ্রাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম হয়েছে। সারা দেশের মানুষকে বিশেষ করে, পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল বিশ্ব ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সাথে সংযুক্ত করার বিষয়টি আমলে নিতে গ্রামীণফোনকে আমি অনুরোধ করবো। আর যারা আজকের গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছে, তারা অত্যন্ত ভাগ্যবান। তাদের চালিকাশক্তি ও জীবনীশক্তি অব্যহত থাকুক এই কামনা করি।”

অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান ‘জিপি এক্সপ্লোরারস’ ব্যাচ ২ এর গ্র্যাজুয়েটদের সাথে মতবিনিময় করেন। ইয়াসির আজমান বলেন, “ডিজিটালাইজেশন ত্বরাণ্বিত করতে ও চতুর্থ শিল্প বিল্পবের সুযোগগুলো ব্যবহারে কানেক্টিভিটি ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। একইসাথে, স্ব-নির্ভর ও জ্ঞান-ভিত্তিক অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য অর্জনে এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে তরুণদের ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করে তোলা মূল বিষয় হিসেবে কাজ করবে।

আমরা মনে করি, আমাদের এ প্রচেষ্টা তরুণদের নতুন সুযোগ উন্মোচনের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করে তুলতে সহায়তা করবে, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের মধ্যে দক্ষতা নিশ্চিত করবে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের বিকাশে ভূমিকা রাখবে।

কোভিড-১৯ এর প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সর্বশেষ জিপি এক্সপ্লোরার প্রোগ্রাম শেষ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারী প্রথম দিন থেকেই অদম্য মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, এ কারণেই এ প্রোগ্রাম করা সম্ভব হয়েছে।

আমি নিশ্চিত, তারা তাদের প্রতিষ্ঠান ও পোর্টফলিওতে নতুন মাত্রা যোগ করার পাশাপাশি অতি শীঘ্রই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রফেশনাল হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরিতে সক্ষম হবেন।”

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...