ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এতো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কেন, চলছে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৬:২৩:১২ অপরাহ্ন, সোমাবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৩
  • / 86
একের পর এক আগুনের ঘটনা রাজনৈতিক নাশকতা কিনা, সেটা খতিয়ে দেখছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি। সোমবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের মাদক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি খুব শিগগির প্রতিবেদন জমা দেবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখছেন গত ৫৮ বছরের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চলছে। আমাদের পাশের দেশেও দেখলাম হিটস্ট্রোকে মানুষ মারা যাচ্ছে। ঢাকায় ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, যেটা আমরা চিন্তাও করতে পারি না। সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়। এ অবস্থায় একটা জিনিস আমরা লক্ষ্য করছি, আমাদের মার্কেটগুলোতে হঠাৎ আগুন লাগছে। আমরা বঙ্গবাজারের আগুন দেখেছি, নবাবপুরের ইলেকট্রিক মার্কেটে আগুন দেখেছি। সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেয়ার পরেও প্রায় রোজই আমরা আগুন ধরার দৃশ্যটা দেখছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) নির্দেশনা দিয়েছেন যে, হঠাৎ করে একইসঙ্গে এত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে কেন? সেই ঘটনাগুলো আমরা তদন্ত করছি। আমাদের একটা টিম আগে থেকেই কাজ করছিল। যে টিম কাজ করছিল, তাদের এই আইটেমটাও…আগুন লাগার মূল কারণটা কী, উৎসটা কী, তদন্ত করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি, এসব কিছুর পেছনে যদি কোনো উদ্দেশ্য থাকে, কোনো নাশকতা থাকে বা কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ধরিয়ে দিয়ে থাকেন, একটা ঘটনা ঘটানোর জন্য সেটাও আমাদের কাছে চলে আসবে। আমরা সেজন্য কাজ করছি।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডে যারা সর্বশান্ত হচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রী সব সময় তাদের জন্য চিন্তা-ভাবনা করছেন, তাদের ব্যবস্থা করছেন। আপনারা এ-ও দেখেছেন বঙ্গবাজারে আগুন ধরার সময় আমাদের ফায়ার সার্ভিসের ১৪টা গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। যে গাড়িগুলো আগুন নেভাবে, সেগুলো ভাঙচুর করা হলো। ভিডিওর মাধ্যমে আমরা যাদের চিহ্নিত করেছি, যাদের আমরা ধরেছি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনে হয়েছে তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই ভাঙচুরগুলো করেছে। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিভিন্ন দলের অ্যাকটিভিস্ট বলে তারা পরিচয় দিয়েছে। এসব কিছু নিয়েই আমাদের তদন্ত চলছে। আমরা আশা করি, তদন্তের পর আমরা আপনাদের আরও কিছু জানাতে পারব’, যোগ করেন মন্ত্রী।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নাশকতা মনে করছেন কিনা; জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আমি তো সেটাই বলছি, আমরা নাশকতা চিন্তা করছি, আমরা মনে করছি, কেউ উদ্দেশ্য করে এটা করাতে পারে। তদন্তের পরে আমরা বিস্তারিত বলতে পারব। আমরা এটা নিয়ে চিন্তায় রয়েছি, আমরা এটা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছি। প্রধানমন্ত্রী একটা নির্দেশনা দিয়েছে সে অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।’

ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী এসব অগ্নিকাণ্ডের পেছনে সিটি করপোরেশনের ইন্ধন থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে তদন্তে নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি উঠে আসবে কিনা, এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন এখানে কি করবে? বঙ্গবাজারকে অনেক আগেই সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিস পরিত্যক্ত মার্কেটে হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। তারপরও তো তারা কোর্টের একটা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মার্কেট করছিল। সিটি করপোরেশন নিজের কাজ করছে। এগুলো নিয়ে অনেকে হয়তো বিভ্রান্তিকর নিউজ ছড়াতে পারে। সবকিছুই আমরা তদন্ত করে দেখছি।’

ঈদের লম্বা ছুটিতে নিরাপত্তার জন্য কি করবেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা এরইমধ্যে একটি মিটিং করেছি। সেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে যাতে বাড়ি যাওয়া মানুষগুলো নির্বিঘ্নে যেতে পারে; সেজন্য রাস্তা ঘাটগুলো সচল রাখার জন্য চেষ্টা করছি। গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্প কলকারখানাগুলো ছুটি যাতে ধীরে ধীরে বা পর্যায়ক্রমে দেয়, এসব বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।’

‘এছাড়া ফায়ার সার্ভিস থাকবে, যেখানে দুর্ঘটনা হবে, সেখানে অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। সবগুলো মার্কেটে তারা সব সময় স্বচেষ্ট থাকবে; যাতে করে আগুন না ধরে। এরইমধ্যে ফায়ার সার্ভিস সব মার্কেটেই গিয়েছে, পরীক্ষা করে তারা কিছু নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে তারা সতর্ক থাকতে পারে। আর নিরাপত্তার কথা যেটা বলেছেন, সেক্ষেত্রে আমাদের পুলিশ বাহিনী দেশে যেসব জায়গায় মার্কেট রয়েছে, সেখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা তারা করছেন,’ বলেন তিনি।

৫৮টি মার্কেট ঝুঁকিপূর্ণ, সেসব মার্কেট কি করা হবে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই মার্কেটগুলোর ব্যবসায়ীরা যারা আছেন, তারা এটার ব্যবস্থা নেবেন। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় মার্কেটগুলো চালাবেন কিনা; এটা তারা বলতে পারবেন। আমি মনে করি, দ্রুতই ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা অন্যত্র সরিয়ে নেবে।’

তদন্ত কমিটি কয়টি করা হয়েছে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তিনটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। একটি ফায়ার সার্ভিসের, আরেকটি ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত কমিটি রয়েছে। সেখানে সরকারি সব অফিস, কেবিনেটের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ কমিটি হয়েছে।’

 

কতদিনে তদন্ত শেষ হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সেখানে নতুন এজেন্ডা দেয়া হয়েছে। এ দুইটি বিষয় যেমন, অগ্নিকাণ্ড নাশকতা কিনা, রাজনৈতিক কোনো ইন্ধন কিনা; এসব বিষয় দেখতে বলা হয়েছে। তারা এটা আরও ডিটেইল তদন্ত করবে এবং দ্রুত প্রতিবেদন দেবে। এজন্য দুই দিন সময় বাড়ানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের ওপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক ইন্ধনের কথা বললেন, আসলে এটা কোন দলের বলে মনে করছেন, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এটা আরও একটু নিশ্চিত হয়ে জানাব। তবে প্রাথমিকভাবে জেনেছি, তারা একটি রাজনৈতিক দলের কোনো গোষ্ঠী। আরও তদন্ত করে জানাতে পারব।’

আসাদুজ্জমান বলেন, ‘আমরা সব কিছু চিন্তা করছি, সেজন্য তদন্ত করছি। এ ঘটনা নাশকতা কিনা; সেটা যেমন দেখছি, ২০১৩-১৪ সালের বাসে, গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার দৃশ্য দেখেছেন, নিরীহ মানুষ পুড়িয়ে মারার দৃশ্য দেখেছেন। সেগুলো জনসাধারণ এখনও ভুলে নাই। সে ধরনের আরও একটা ঘটনা ঘটাতে চায় কিনা; এ ধরনের প্রশ্ন আজকে অনেকের মনে। আমরা সেগুলো দেখছি তদন্ত করে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এতো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কেন, চলছে তদন্ত

আপডেট : ০৬:২৩:১২ অপরাহ্ন, সোমাবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৩
একের পর এক আগুনের ঘটনা রাজনৈতিক নাশকতা কিনা, সেটা খতিয়ে দেখছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি। সোমবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের মাদক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি খুব শিগগির প্রতিবেদন জমা দেবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখছেন গত ৫৮ বছরের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চলছে। আমাদের পাশের দেশেও দেখলাম হিটস্ট্রোকে মানুষ মারা যাচ্ছে। ঢাকায় ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, যেটা আমরা চিন্তাও করতে পারি না। সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়। এ অবস্থায় একটা জিনিস আমরা লক্ষ্য করছি, আমাদের মার্কেটগুলোতে হঠাৎ আগুন লাগছে। আমরা বঙ্গবাজারের আগুন দেখেছি, নবাবপুরের ইলেকট্রিক মার্কেটে আগুন দেখেছি। সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেয়ার পরেও প্রায় রোজই আমরা আগুন ধরার দৃশ্যটা দেখছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) নির্দেশনা দিয়েছেন যে, হঠাৎ করে একইসঙ্গে এত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে কেন? সেই ঘটনাগুলো আমরা তদন্ত করছি। আমাদের একটা টিম আগে থেকেই কাজ করছিল। যে টিম কাজ করছিল, তাদের এই আইটেমটাও…আগুন লাগার মূল কারণটা কী, উৎসটা কী, তদন্ত করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি, এসব কিছুর পেছনে যদি কোনো উদ্দেশ্য থাকে, কোনো নাশকতা থাকে বা কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ধরিয়ে দিয়ে থাকেন, একটা ঘটনা ঘটানোর জন্য সেটাও আমাদের কাছে চলে আসবে। আমরা সেজন্য কাজ করছি।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডে যারা সর্বশান্ত হচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রী সব সময় তাদের জন্য চিন্তা-ভাবনা করছেন, তাদের ব্যবস্থা করছেন। আপনারা এ-ও দেখেছেন বঙ্গবাজারে আগুন ধরার সময় আমাদের ফায়ার সার্ভিসের ১৪টা গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। যে গাড়িগুলো আগুন নেভাবে, সেগুলো ভাঙচুর করা হলো। ভিডিওর মাধ্যমে আমরা যাদের চিহ্নিত করেছি, যাদের আমরা ধরেছি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনে হয়েছে তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই ভাঙচুরগুলো করেছে। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিভিন্ন দলের অ্যাকটিভিস্ট বলে তারা পরিচয় দিয়েছে। এসব কিছু নিয়েই আমাদের তদন্ত চলছে। আমরা আশা করি, তদন্তের পর আমরা আপনাদের আরও কিছু জানাতে পারব’, যোগ করেন মন্ত্রী।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নাশকতা মনে করছেন কিনা; জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আমি তো সেটাই বলছি, আমরা নাশকতা চিন্তা করছি, আমরা মনে করছি, কেউ উদ্দেশ্য করে এটা করাতে পারে। তদন্তের পরে আমরা বিস্তারিত বলতে পারব। আমরা এটা নিয়ে চিন্তায় রয়েছি, আমরা এটা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছি। প্রধানমন্ত্রী একটা নির্দেশনা দিয়েছে সে অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।’

ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী এসব অগ্নিকাণ্ডের পেছনে সিটি করপোরেশনের ইন্ধন থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে তদন্তে নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি উঠে আসবে কিনা, এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন এখানে কি করবে? বঙ্গবাজারকে অনেক আগেই সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিস পরিত্যক্ত মার্কেটে হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। তারপরও তো তারা কোর্টের একটা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মার্কেট করছিল। সিটি করপোরেশন নিজের কাজ করছে। এগুলো নিয়ে অনেকে হয়তো বিভ্রান্তিকর নিউজ ছড়াতে পারে। সবকিছুই আমরা তদন্ত করে দেখছি।’

ঈদের লম্বা ছুটিতে নিরাপত্তার জন্য কি করবেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা এরইমধ্যে একটি মিটিং করেছি। সেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে যাতে বাড়ি যাওয়া মানুষগুলো নির্বিঘ্নে যেতে পারে; সেজন্য রাস্তা ঘাটগুলো সচল রাখার জন্য চেষ্টা করছি। গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্প কলকারখানাগুলো ছুটি যাতে ধীরে ধীরে বা পর্যায়ক্রমে দেয়, এসব বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।’

‘এছাড়া ফায়ার সার্ভিস থাকবে, যেখানে দুর্ঘটনা হবে, সেখানে অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। সবগুলো মার্কেটে তারা সব সময় স্বচেষ্ট থাকবে; যাতে করে আগুন না ধরে। এরইমধ্যে ফায়ার সার্ভিস সব মার্কেটেই গিয়েছে, পরীক্ষা করে তারা কিছু নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে তারা সতর্ক থাকতে পারে। আর নিরাপত্তার কথা যেটা বলেছেন, সেক্ষেত্রে আমাদের পুলিশ বাহিনী দেশে যেসব জায়গায় মার্কেট রয়েছে, সেখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা তারা করছেন,’ বলেন তিনি।

৫৮টি মার্কেট ঝুঁকিপূর্ণ, সেসব মার্কেট কি করা হবে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই মার্কেটগুলোর ব্যবসায়ীরা যারা আছেন, তারা এটার ব্যবস্থা নেবেন। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় মার্কেটগুলো চালাবেন কিনা; এটা তারা বলতে পারবেন। আমি মনে করি, দ্রুতই ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা অন্যত্র সরিয়ে নেবে।’

তদন্ত কমিটি কয়টি করা হয়েছে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তিনটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। একটি ফায়ার সার্ভিসের, আরেকটি ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত কমিটি রয়েছে। সেখানে সরকারি সব অফিস, কেবিনেটের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ কমিটি হয়েছে।’

 

কতদিনে তদন্ত শেষ হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সেখানে নতুন এজেন্ডা দেয়া হয়েছে। এ দুইটি বিষয় যেমন, অগ্নিকাণ্ড নাশকতা কিনা, রাজনৈতিক কোনো ইন্ধন কিনা; এসব বিষয় দেখতে বলা হয়েছে। তারা এটা আরও ডিটেইল তদন্ত করবে এবং দ্রুত প্রতিবেদন দেবে। এজন্য দুই দিন সময় বাড়ানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের ওপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক ইন্ধনের কথা বললেন, আসলে এটা কোন দলের বলে মনে করছেন, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এটা আরও একটু নিশ্চিত হয়ে জানাব। তবে প্রাথমিকভাবে জেনেছি, তারা একটি রাজনৈতিক দলের কোনো গোষ্ঠী। আরও তদন্ত করে জানাতে পারব।’

আসাদুজ্জমান বলেন, ‘আমরা সব কিছু চিন্তা করছি, সেজন্য তদন্ত করছি। এ ঘটনা নাশকতা কিনা; সেটা যেমন দেখছি, ২০১৩-১৪ সালের বাসে, গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার দৃশ্য দেখেছেন, নিরীহ মানুষ পুড়িয়ে মারার দৃশ্য দেখেছেন। সেগুলো জনসাধারণ এখনও ভুলে নাই। সে ধরনের আরও একটা ঘটনা ঘটাতে চায় কিনা; এ ধরনের প্রশ্ন আজকে অনেকের মনে। আমরা সেগুলো দেখছি তদন্ত করে বিস্তারিত জানাতে পারব।’