ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পশুরহাটে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন উদ্বেগজনক

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৮:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুলাই ২০২১
  • ২১ বার পড়া হয়েছে
::নিজস্ব প্রতিবেদক::

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে স্থাপিত কোরবানির পশুরহাটে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রোববার দুপুরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত ভার্চুয়াল বুলেটিনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যেখানে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি জড়িয়ে আছে, ইতোমধ্যে সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছি। যেহেতু কোরবানির পশুরহাটগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেখভাল করা হয়, আমরা জানি বিষয়টি নিয়ে তারাও নজরদারিতে আছেন। ক্রেতা-বিক্রেতা সবারই সচেতনতা ও দায়িত্ব বোধের বিষয়টি আমরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।

নাজমুল ইসলাম বলেন, সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে মনিটরিং টিম আছে। তারা তাদের মতো করে দেখভাল করছেন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রত্যেকেই আমরা দায়িত্বশীল নাগরিক। দায়িত্বের জায়গাটি তাদের মনে করিয়ে দেওয়া এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের প্রত্যেকেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। যে যার জায়গা থেকে প্রত্যেকের ভূমিকাটি যদি আমরা যথাযথভাবে পালন করি, তাহলে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি আরেকটু ভালোভাবে মেনে চলা সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ভূটান। সেখানে মাত্র দুই হাজার ৩৯৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং মাত্র দুই জন মারা গেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ২৮তম সপ্তাহে দুই লাখ ৮৪ হাজার ৪২৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ৮৩ হাজার ৯৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৫৫ হাজার ২৪ জন, মারা গেছেন এক হাজার ৪৮০ জন। মৃত্যুর সংখ্যা ১৫ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়েছে। ৪১ দশমিক ৩০ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়েছেন। শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া, এই সপ্তাহে ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত সাত দিনের সংক্রমণের পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, সংক্রমণের হার ২৯ শতাংশের উপরে থেকেছে বেশির ভাগ সময়। শুক্রবার হওয়ায় নমুনা সংগ্রহ কম থাকলেও সংক্রমণের হার ২৯ শতাংশের বেশিই ছিল। গত ৩০ দিনের সংক্রমণের যে চিত্র তাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে আমরা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করেছি। শতকরা হিসেবে শনাক্তের হারও বেশি।

তিনি আরও বলেন, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত তুলনা করলে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে ২১ হাজার ৬২৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। যা ফেব্রুয়ারিতে আরও কমে গিয়েছিল। মার্চ থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করল, এপ্রিলে বাড়ল। জুলাই মাসে এসে আজ পর্যন্ত এক লাখ ৭৯ হাজার ১৫৩ জন রোগী এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন। সংখ্যার হিসেবে গতকাল ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন, সবচেয়ে কম মারা গেছেন সিলেট বিভাগে।

ডেঙ্গু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবার সচেতন অংশগ্রহণ না থাকলে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পশুরহাটে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন উদ্বেগজনক

আপডেট সময় : ০১:০৮:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুলাই ২০২১
::নিজস্ব প্রতিবেদক::

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে স্থাপিত কোরবানির পশুরহাটে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রোববার দুপুরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত ভার্চুয়াল বুলেটিনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যেখানে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি জড়িয়ে আছে, ইতোমধ্যে সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছি। যেহেতু কোরবানির পশুরহাটগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেখভাল করা হয়, আমরা জানি বিষয়টি নিয়ে তারাও নজরদারিতে আছেন। ক্রেতা-বিক্রেতা সবারই সচেতনতা ও দায়িত্ব বোধের বিষয়টি আমরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।

নাজমুল ইসলাম বলেন, সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে মনিটরিং টিম আছে। তারা তাদের মতো করে দেখভাল করছেন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রত্যেকেই আমরা দায়িত্বশীল নাগরিক। দায়িত্বের জায়গাটি তাদের মনে করিয়ে দেওয়া এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের প্রত্যেকেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। যে যার জায়গা থেকে প্রত্যেকের ভূমিকাটি যদি আমরা যথাযথভাবে পালন করি, তাহলে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি আরেকটু ভালোভাবে মেনে চলা সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ভূটান। সেখানে মাত্র দুই হাজার ৩৯৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং মাত্র দুই জন মারা গেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ২৮তম সপ্তাহে দুই লাখ ৮৪ হাজার ৪২৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ৮৩ হাজার ৯৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৫৫ হাজার ২৪ জন, মারা গেছেন এক হাজার ৪৮০ জন। মৃত্যুর সংখ্যা ১৫ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়েছে। ৪১ দশমিক ৩০ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়েছেন। শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া, এই সপ্তাহে ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত সাত দিনের সংক্রমণের পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, সংক্রমণের হার ২৯ শতাংশের উপরে থেকেছে বেশির ভাগ সময়। শুক্রবার হওয়ায় নমুনা সংগ্রহ কম থাকলেও সংক্রমণের হার ২৯ শতাংশের বেশিই ছিল। গত ৩০ দিনের সংক্রমণের যে চিত্র তাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে আমরা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করেছি। শতকরা হিসেবে শনাক্তের হারও বেশি।

তিনি আরও বলেন, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত তুলনা করলে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে ২১ হাজার ৬২৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। যা ফেব্রুয়ারিতে আরও কমে গিয়েছিল। মার্চ থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করল, এপ্রিলে বাড়ল। জুলাই মাসে এসে আজ পর্যন্ত এক লাখ ৭৯ হাজার ১৫৩ জন রোগী এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন। সংখ্যার হিসেবে গতকাল ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন, সবচেয়ে কম মারা গেছেন সিলেট বিভাগে।

ডেঙ্গু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবার সচেতন অংশগ্রহণ না থাকলে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।