টিআইবির গবেষণা : শিক্ষক হতে ঘুষ লাগে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১:৫২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৪ সপ্তাহ আগে

ছবি সংগৃহীত

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাধ্যমিক পর্যায়ে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগে দুই থেকে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, গভর্নিং বডি ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ওই অর্থ আদায় করে থাকে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণায় টিআইবি এ তথ্য জানিয়েছে। ভার্চুয়ালি এই গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।

টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশ করা সহকারী শিক্ষকদেরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগদানের জন্য দুই লাখ থেকে তিন লাখ পর্যন্ত টাকা দিতে হয়। এ টাকা দিতে হয় প্রধান শিক্ষক বা পরিচালনা কমিটিকে। শিক্ষক এমপিওভুক্তিতে পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ পর্যন্ত টাকা দিতে হয়। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষার কাজে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষকের এক মাসের এমপিওর টাকা দিতে হয়। এ টাকা দিতে হয় পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সংশ্লিষ্ট কমর্কতাদের। আর শিক্ষক বদলিতে এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকা দিতে হয়। এ টাকা দিতে হয় মধ্যসত্ত্বভোগী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। আর প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতির জন্য এক লাখ থেকে শুরু করে পাঁচ লাখ এবং স্বীকৃতি প্রদানে পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা দিতে হয় নিয়মের বাইরে। এর মানে প্রচলিত অর্থে এগুলো ঘুষ।

এতে টিআইবি জানায়, শিক্ষাপ্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গতিশীলতা আনয়নে এবং শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিতকরণে জাতীয় শিক্ষানীতিতে (২০১০) বিভিন্ন কৌশল নির্ধারণ করা হলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। সেইসঙ্গে শিক্ষাখাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে ২০টি সুপাারিশ করেছে সংস্থাটি।

গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহে কেন্দ্রীয়সহ মাউশির বিভিন্ন পর্যায়ের (বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা) কার্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া দেশের ১৮টি উপজেলায় অবস্থিত মোট ৫৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (প্রতি উপজেলায় দুটি বেসরকারি এমপিওভুক্ত ও একটি সরকারি) হতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনে নতুন ও পুরাতন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি বা সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয়করণকৃত প্রতিষ্ঠান, ভৌগোলিক অবস্থান ইত্যাদি বিবেচনা করা হয়।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, আইন, বিধি-বিধান ও আদেশ একত্রিত করে শিক্ষানীতির আলোকে একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রবর্তন সম্পর্কে বলা হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর খসড়া শিক্ষা আইনটি নিয়ে কাজ করা হলেও আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতায় এটি এখনো কার্যকর হয়নি। নির্বাহী আদেশ ও নির্দেশে মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

টিআইবি জানায়, উন্নয়নে পরামর্শ প্রদানে যথাযথ ক্ষমতা ও দক্ষতাসম্পন্ন একটি ‘প্রধান শিক্ষা পরিদর্শক’ এর অফিস স্থাপন, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসনে যথাযথ জবাবদিহিতার ব্যবস্থা নিশ্চিতে ‘পৃথক মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’ গঠন, শিক্ষানীতির সময়োপযোগী ও প্রয়োজনে পরিবর্তন করার সুপারিশ তৈরি করা এবং শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পরামর্শকারী সংস্থা হিসেবে আইনের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসিত সংবিধিবদ্ধ একটি ‘স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা কমিশন’ গঠন সম্পর্কে বলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। যদিও সম্প্রতি ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন’ গঠনের কাজ শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নির্বাচনে সরকারি কর্মকমিশনের অনুরূপ ‘বেসরকারি শিক্ষক নির্বাচন কমিশন’ গঠন সম্পর্কে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে ‘শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠন করা হয়। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার সুপারিশ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা, শিক্ষকদের জন্য নৈতিক আচরণ বিধিমালা প্রণয়ন করা, পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘনে অভিযুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শাস্তিমূলক পদক্ষেপসমূহ সুষ্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে বলা হলেও আজ পর্যন্ত শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিতে উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ বেগবানে প্রত্যেক বিভাগে একটি করে ‘আঞ্চলিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দক্ষতা মূল্যায়নে নিবিড় পরিবীক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং কোনো দুর্বলতা পরিলক্ষিত হলে বিশেষ ব্যবস্থায় তা দূর করা হবে বলা হলেও কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জন মূল্যায়নে পদ্ধতি নিরূপণ করা ও বাস্তবায়ন উদ্যোগ গ্রহণ সম্পর্কে বলা হলেও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের পাঠ আত্মস্থ করতে পারছে কিনা তা যাচাইয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় গুণগত শিক্ষার ভিত তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।

সম্প্রতি নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখা প্রণয়ন করা হলেও এটি বাস্তবায়নে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় চ্যালেঞ্জের (অধিক যোগ্যতা ও দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষক ও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাতে) ঝুঁকি রয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অনুপাত পর্যায়ক্রমে ২০১৮ সালের মধ্যে ১:৩০-এ উন্নীত করার কথা বলা হলেও এ পর্যন্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর নির্ধারিত অনুপাত প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সব শিক্ষার্থীর প্রতি শিক্ষকের মনোযোগ দেয়া যেমন সম্ভব হচ্ছে না, শিক্ষার্থীরাও যথাযথ শিক্ষা নিতে পারছে না।

গবেষণায় আরও বলা হয়, শিক্ষা খাতে একটি দেশের মোট জিডিপির ছয় শতাংশ অথবা মোট বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা উচিত বলে পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো। কিন্তু বাংলাদেশের গত ১০ বছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ পর্যালোচনায় দেখা যায় শতকরা হিসাবে এটি ১০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে জিডিপির সাপেক্ষে বরাদ্দ অনেক কম যা দুই শতাংশ থেকে প্রায় তিন শতাংশ। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো শিক্ষা খাতে জিডিপির প্রায় তিন শতাংশ থেকে ছয় শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ দিয়ে থাকে।

শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ মাঠ পর্যায়ের তদারকি ও তত্ত্বাবধান করা। কিন্তু জনবল ঘাটতির কারণে এর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মাউশি অধিদপ্তরাধীন এবং এর সহযোগী সংস্থার অনুমোদিত জনবলের বিপরীতে পদের শূন্যতা রয়েছে, যেমন উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমোদিত পদের প্রায় ১২.০ শতাংশ পদ, প্রায় ৬৪.০ শতাংশ উপজেলায় সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ, একাডেমিক সুপারভাইজারের প্রায় তিন শতাংশ পদ, প্রায় ৩৮.০ শতাংশ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদ, এবং জেলা ও আঞ্চলিক কার্যালয়সহ সহকারী পরিদর্শকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে ১১.০ শতাংশ পদ শূন্য।

মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে শিক্ষকদের পদোন্নতিতে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, পাঠদানে উৎসাহ হ্রাস পায়, মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেসরকারি এমপিওভুক্ত প্রভাষকদের চাকরিজীবনে প্রভাষক থেকে সর্বোচ্চ সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে। প্রভাষক পদে চাকরির আট বছর পূর্তিতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়ে থাকে।

এছাড়া বিষয়ভিত্তিক সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরিতে শিক্ষকদের সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরিতে প্রশিক্ষণের সময় পর্যাপ্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা প্রশিক্ষণটির ওপর পরিপূর্ণ দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। তাছাড়া সৃজনশীল বিষয়টি কঠিন হওয়া এবং শিক্ষক পর্যাপ্ত যোগ্য না হওয়ায় নিজেরা সঠিকভাবে সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্ন প্রণয়ন করতে পারছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানাগারে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক উপকরণের ঘাটতি রয়েছে। সর্বোপরি প্রশিক্ষণের কার্যকর প্রয়োগে কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আগ্রহ ও আন্তরিকতারও অভাব রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, অধিকাংশ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস অনেক পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনে অবস্থিত। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে কর্মরত সকলের বসার যথাযথ ব্যবস্থা নেই, অধিকাংশ শিক্ষা অফিসে শিক্ষা উপকরণ বা বইপত্র রাখার পৃথক স্থান নেই এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণে ঘাটতি রয়েছে। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও আইসিটি ল্যাবের মনিটর, প্রজেক্টর, প্রিন্টার, ল্যাপটপ, কিবোর্ড ইত্যাদি নষ্ট হলে দ্রুত তা মেরামতের ব্যবস্থা নেই।

এছাড়া শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একটি প্রতিষ্ঠান আকস্মিক পরিদর্শনের জন্য বলা হলেও তা নিয়মিত করা হয় না। পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠান প্রধান/কমিটির কোনো ধরনের আর্থিক দুর্নীতি অথবা অনিয়ম সম্পর্কে জানা গেলেও রাজনৈতিক প্রভাব/হেনস্তার কারণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়। বিভিন্ন ব্যস্ততা দেখিয়ে মাঠ পর্যায়ের মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা পরিদর্শন প্রতিবেদন অনেক ক্ষেত্রে মাউশি অধিদপ্তরে পাঠান না বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রতিবছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন ও নিরীক্ষা হওয়ার কথা বলা হলেও তা হয় না। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে তিন বছর থেকে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক পদগুলোতে সমন্বিত জনবল কাঠামোর অনুপস্থিতিতে দক্ষ শিক্ষা প্রশাসন পরিচালনায় ঘাটতি লক্ষণীয়।

শিক্ষাখাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে টিআইবি যে ২০টি সুপারিশ করেছে তার মধ্যে রয়েছে- শিক্ষানীতি ২০১০ এর আলোকে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে সরাসরি রাজস্ব খাতের আওতাভুক্ত সমন্বিত জনবল কাঠামো তৈরি করতে হবে। বয়স অনুযায়ী যেসব শিক্ষার্থীর জন্য কোভিড-১৯ টিকা প্রযোজ্য তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনতে হবে। অনলাইনে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনা, শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পূরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়াও ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা সামাজিক বাস্তবতার নিরিখে বৃদ্ধি করতে হবে। দ্রুত অবসর ভাতা প্রদানে বাজেটে বরাদ্দ রাখা এবং নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষকদের অধিকতর দক্ষ করে তুলতে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে বৈষম্য দূরীকরণে প্রয়োজনীয় অর্থ ও অন্যান্য বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহকৃত ল্যাপটপ, প্রজেক্টরসহ অন্যান্য উপকরণ রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুকূলে আর্থিক বরাদ্দ প্রদান করার সুপারিশ করেছে টিআইবি।

এসময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ছাড়াও টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, মোহাম্মদ রফিকুল হাসান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির পরিচালক ও গবেষণা দলের প্রধান শাহজাদা এম আকরাম, সিনিয়র ফেলো-রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি আবু সাঈদ মো. জুয়েল মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...