প্রয়োজনে মিয়ানমার সীমান্তে গুলি চালানো হবে

সিলেট প্রতিনিধি;
  • প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০২১, ১:৫০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স প্রদান অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মিয়ানমার থেকে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও মানবপাচার রোধে প্রয়োজনে সীমান্তে গুলি চালানো হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

মঙ্গলবার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভারত সরকারের দেয়া দুটি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন প্রতিক্রিয়া জানান।

মন্ত্রী আরও বলেন, মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে সকল ধরনের চোরাচালান বন্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, মায়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তে গুলি না চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। কিন্তু, অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে এখন থেকে গুলি চালানো হবে। তাহলেই মানব, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বন্ধ হবে। তবে, এ বিষয়ে সরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান ড. একে আব্দুল মোমেন।

অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দ্বোরাইস্বামীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

এ সময় মন্ত্রী সিলেটে সওজের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১০ সালে বিমানবন্দর-বাদাঘাট বাইপাস সড়ক উন্নয়নের প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। ১২ বছরে ১২ কিলোমিটার রাস্তার কাজ হয়নি। এটা সংশ্লিষ্টদের জন্য লজ্জার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই ব্যর্থতা আমাদের জন্য দুঃখের, যারা এই রাস্তা ব্যবহার করছেন তাদের জন্যও দুঃখের। আর যারা এই কাজের দায়িত্বে (সওজ কর্মকর্তারা) ছিলেন তাদের জন্য লজ্জার। ১২ বছরে একটি রাস্তা করতে না পারার জন্য তাদের মাথা ‘হ্যাট’ হওয়া উচিত। লজ্জায় তাদের চাকরি ছেড়ে দেয়া উচিত।

বহির্বিশ্বের উদাহরণ টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কুরিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে যখন পার্ক আসেন তখন তিনি আইন করেন একটা প্রকল্পের জন্য একজনই প্রকল্প পরিচালক থাকবেন। এক ব্যক্তি একাধিক প্রকল্পের পরিচালক হবেন না।

সময়মতো এই পরিচালক তার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারলে ‘প্রমোটেড’ হবেন, আর ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে তাকে চাকরি থেকে বের করে দেয়া হবে। এই আইন বাস্তবায়নের ফলে সাউথ কুরিয়া এখন মডেল। অথচ তারা আমাদের চেয়ে গরীব দেশ ছিল।

ড. মোমেন বলেন, ‘এখন সময় এসেছে আমাদেরও এরকম চিন্তা-ভাবনা করার। প্রধানমন্ত্রীকেও এ ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে। কারণ জনগণের কাছে আমরা উন্নয়নের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উন্নয়নের ব্যাপারে কোন গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়।’

সিলেটের কোন উন্নয়ন যাতে আটকে না যায়, সে ব্যাপারে স্থানীয় নেতাদেরও দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...