মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভিড়ের চাপে নেতাদের বাসাবাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২১, ৩:০৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে
ছবি সংগৃহীত

দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে প্রার্থীদের জোর লড়াই চলছে। শেষ সময়ে কেন্দ্রের নজর কাড়ার চেষ্টায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। এজন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। তারা কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় এমপিদের সরকারি বাসভবনে করছেন তদবির।

আগামীকাল শুক্রবার ও শনিবার দলীয় মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী বাছাই শেষে নৌকা প্রতীকের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়া হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংসদীয় আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়নের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা শুক্রবার ও শনিবারও চলবে। সভায় প্রার্থী বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হবে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের দপ্তর জানায়, গত শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ইউপি নির্বাচনের দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমা নেয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ৮৪৮ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন করেন ৪ হাজার ৪৫৮ জন।

নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীদের প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। তবে এ উত্তাপে মাঠে নেই বিএনপি।

নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত অংশগ্রহণ না করায় ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন নিশ্চিত হলেই পাশ; এমন আশায় অনেকেই প্রার্থী হতে চান বলে জানা গেছে। এরকম প্রার্থীর সংখ্যা আওয়ামী লীগেরই বেশি। প্রতি ইউনিয়ন পরিষদে লড়াই করছেন ৫ জনের বেশি।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রায় সাড়ে চার হাজার মনোনয়নপ্রত্যাশী সবাই তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাদের বেশিরভাগই সমর্থন পেতে এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও দলীয় সম্পাদকের বাসায় ভিড় করছেন। সেই সঙ্গে নেতাকর্মীদের নিয়ে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসায় বাসায়। এতে নেতাদের বাসাবাড়িতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভিড় জমছে।

এদিকে একই ইউপিতে আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় দলের মধ্যে এক ধরণের ‘বিভেদ’ দেখা দিয়েছে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হওয়ায় চলছে দলীয় কোন্দল।

তবে নেতাকর্মীরা বলছেন, কেন্দ্র থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত হলে বিভেদ দূর হয়ে যাবে। তবে কেউ কেউ মনে করেন, নৌকার প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে অনেকেই নির্বাচন করবেন।

নরসিংদীর মনোহরদী থানার চন্দনবাড়ী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ হিরন ছাড়াও একাধিক প্রার্থী আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে আবেদন করেছেন।

একই অবস্থা পাশের ইউনিয়ন বড়চাপাতেও। এই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান উপাধ্যক্ষ এম সুলতান উদ্দিনের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন নৌকার মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। তাদের অনেকেই এখন ঢাকায় অবস্থান করে লবিং চালাচ্ছেন।

চন্দনবাড়ী ইউনিয়নে আবারও মনোনয়নপ্রত্যাশী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ হিরন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, গতবার দল আমার উপর আস্থা রেখেছে। আমি দলের আস্থার প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করেছি। এলাকাবাসীকে নিয়ে সফলভাবে বিগত পাচঁ বছর কাজ করেছি। এবারও আশা করছি দল আমার ওপরই দায়িত্ব দেবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, দল যে সিদ্ধান্ত দিবে সেটি মেনে নেবো।

জানতে চাইলে উপাধ্যক্ষ এম সুলতান উদ্দিন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, কেন্দ্র থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত হলে সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমরা সবাই একমত।

তবে স্থানীয় সুত্র জানায়, এই দুটি ইউনিয়ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেলে অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন।

আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২০টি ইউপিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোটগ্রহণ হবে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কমিশন তফসিল অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ১৭ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র বাছাই ২০ অক্টোবর ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২৬ অক্টোবর। প্রতীক বরাদ্দ হবে ২৭ অক্টোবর।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...