পেঁয়াজের জ্বালায় অস্থির হয়ে গেছি: বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক;
  • প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১:২৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ মাস আগে

ছবি সংগৃহীত

পেঁয়াজের জ্বালাতেই অস্থির হয়ে গেছি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বাণিজ্যমন্ত্রী হিসাবে কৃষিখাতের এই পণ্যটি নিয়ে তাকে বেশ অস্বস্থিতে পড়তে হয়। এ জন্য সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ফলন পাওয়া সম্ভব ও দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করে রাখা যায় এমন পেঁয়াজের জাত উদ্ভাবন করতে বিজ্ঞানীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশের ৫০ বছর: কৃষির রূপান্তর ও অর্জন’ শীর্ষক কৃষি সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। দৈনিক পত্রিকা বণিক বার্তা ও বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ) যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

সঠিক পরিসংখ্যানের গুরুত্ব তুলে ধরে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘আমাদের পরিসংখ্যানে ঝামেলা আছে। গত বছর এক কোটি ৬ লাখ মে. টন আলু উৎপাদন হয়েছিল। আমাদের চাহিদার কথা বলা হয় ৭০ থেকে ৭৫ লাখ টন। এ হিসাবে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টন আলু বাড়তি থাকার কথা। সে সময়ে রফতানি বন্ধ ছিল। তারপরও আমাদের ঝামেলা হয়েছিল। তখন আমরা বুঝতে পারি নাই প্রকৃতপক্ষে আমাদের উৎপাদন কম হয়েছে না চাহিদা বেশি ছিল। এ হিসাবটা আমাদের সঠিকভাবে আসেনি।’

পেঁয়াজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ থেকে ২৫ লাখ টনের মতো। এর বিপরীতে আমাদের উৎপাদন হয়েছে ৩০ লাখ টনের বেশি। তারপরও আমদানি করতে হয়। কারণ মোট উৎপাদিত পেঁয়াজের প্রায় ২০ ভাগ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। আবার যেটুকু আমদানি করতে হয় তার ৯০ ভাগ পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। ভারতে যখন সমস্যা তৈরি হয় আমাদের দেশেও একই সমস্যা দেখা দেয়। এখানে আমাদের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি চাহিদার সঠিক হিসাবটাও থাকা দরকার। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসেই মূলত পেঁয়াজ নিয়ে সমস্যাটা হচ্ছে। এ সময়ে পেঁয়াজের উৎপাদন করা যায় কিনা এবং উৎপাদিত পেঁয়াজের যথাযথ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া যায় কিনা সে বিষয়ে কাজ করার দরকার আছে।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘মাছে আমাদের ব্যপক বিপ্লব হলেও গরুর মাংস বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এখানে আমরা যদি আমদানির অনুমতি দেই তাহলে দেশের ডেইরি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এজন্যে ভোক্তাদের একটু কষ্ট হলেও আমরা স্থানীয় উৎপাদন দিয়ে চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছি।’

সমাপনী অধিবেশেনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, ‘আমাদের কৃষিতে বৈচিত্র্যায়ন হয়েছে, বাণিজ্যিকীকরণ হচ্ছে। আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। কিন্তু এ কথা ঠিক এখনো আমরা আমাদের সমমানের দেশগুলো যেমন ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ বেশ কিছু দেশের তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার কৃষির উন্নয়নে বিশেষ করে ধানের ক্ষেত্রে প্রচুর সহযোগিতা দিচ্ছে। তারপরেও আমাদের উৎপাদনশীলতা অনেক কম। আমরা যখন হেক্টরপ্রতি ২.৪৪ মে.টন চাল উৎপাদন করছি সেখানে একই পরিমাণ জমিতে ভিয়েতনাম ৫.৯ মে.টন চাল উৎপাদন করছে। অর্থাৎ আমরা প্রযুক্তিগতভাবে অনেক পিছিয়ে আছি। যেটা পেঁয়াজ রসুনের আকার দেখলেই বোঝা যায়। এসডিজি লক্ষ্য মাত্রা পূরুণ করতে হলে আমাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে উৎপাদনশীলতা দ্বিগুণ করতে হবে। ফসলের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে।’

বাজার নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাজারে কোনো কিছুর দাম বাড়লেই মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কথা বলা হয়। কিন্তু এটা ঠিক না। কারণ বাজারে কোনো কিছুর দাম বাড়লে নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় এটির সরবরাহ কম। মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে দাম বেঁধে দেওয়া ঠিক না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষুদ্রায়তনের কৃষি দিয়ে আমরা খুব বেশি দূর যেতে পারব না। আমাদের কাঠামোগত পরিবর্তন করতে হবে। কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ করা জরুরি।’

এর আগে, উদ্বোধনী অধিবেশনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘করেনা মহামারি সত্বেও এ দেশের মানুষ না খেয়ে নেই। এ সময়ে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্যের যোগান দেওয়া এবং কৃষির আধুনিকায়ন করা।’

চাল বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রতি প্রায় ২০০ গ্রামের চাল খেয়ে থাকেন। কিন্তু আমাদের দেশে চাল খাওয়ার পরিমাণ প্রায় ৪০০ গ্রাম। এটা কমিয়ে আনতে পারলে আমাদের যে চালের উৎপাদন সেটাকে টেকসই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্য রফতানি করে বড় আয় করে। কিন্তু আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। আমাদের স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আর্ন্তজাতিক বাজারে প্রবেশ করতে হবে। এ জন্যে কৃষির আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

ফলের উৎপাদন বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ শীত না পরলে আপেল গাছে ফুল আসে না। একসময়ে স্ট্রবেরিও হতো না আমাদের দেশে। এখন অনেক ভালো মানের স্ট্রবেরি উৎপাদন হচ্ছে। আগামী ৫ থেকে ৬ বছরের মধ্যে এদেশে সারাবছর আম পাওয়া যাবে এমন পরিকল্পনা নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

বণিকবার্তার সম্পাদক দেওয়া হানিফ মাহমুদের সঞ্চলনায় সমপানী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। এতে আরও বক্তব্য রাখেন বিএলআরআই’র সাবেক মহাপরিচালক ড. জাহাঙ্গীর আলম, মৎস্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক ড. সৈয়দ আরিফ আজাদ, লাল তীর লাইভস্টকের চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল মিন্টু, ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা, ইউএসএআইডি বাংলাদেশ এর মিশন ডিরেক্টর ক্যাথরিন স্টিভেন্স ও আফতাব বহুমুখী ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু লুৎফে ফজলে রহিম খান।

এর আগে সকালে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...