আকিবের অবস্থার আরও কিছুটা উন্নতি, আশাবাদী চিকিৎসকরা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি;
  • প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২১, ১:৪২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা আকিব মাহাদীর শারীরিক অবস্থার আরও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তার শারীরিক উন্নতি দেখে আশার আলো দেখছেন চিকিৎসকরা। সেইসাথে যেন প্রাণ ফিরে এসেছে আকিবের শিক্ষক বাবা গোলাম ফারুক মজুমদারের মনে। ছেলের সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ জার্নালকে আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রঞ্জন কুমার নাথ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, তার (আকিবের) শারীরিক অবস্থা আরও কিছুটা ইমপ্রুভ করেছে। আমরাও আশাবাদী। ভালো কিছুর অপেক্ষায়। সম্পূর্ণ সুস্থ হতে তার দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন। মুখে খাবার দেয়া হয়েছে। লিকুইড (তরল) জাতীয় খেতে পারছে। সবমিলিয়ে অনেকটা ইমপ্রুভড বলা যায়।

আইসিইউ বিভাগের প্রধান বলেন, আইসিইউতে বাইরের লোকজন অ্যালাউ না। কারণ এখানে (আইসিইউতে) ইনফেকশনের ঝুঁকি থাকে। কিন্তু আকিবকে দেখতে নিয়ম না মেনে অনেকেই আইসিইউতে ভিড় করছে। খুব বেশি লোকজন আসছে। তাদের বুঝানোও যাচ্ছে না। এটা কিন্তু রোগীদের জন্যও ভালো হচ্ছে না। তাই আমাদের অনুরোধ, মানুষজন যাতে এভাবে আইসিইউতে ভিড় না করে।

আকিবের শিক্ষক বাবা গোলাম ফারুক মজুমদার বলেন, আমি অতি সাধারণ একজন স্কুলশিক্ষক। কুমিল্লা জেলা স্কুলে শিক্ষকতা করছি। আকিবও ওই স্কুলের ছাত্র। তাকে আমি অঙ্ক করাতাম। ওর পছন্দের বিষয় ছিল অঙ্ক। আজ ছেলের জীবনের অঙ্কের হিসাব-নিকাশ কষছি চট্টগ্রাম মেডিকেলের আইসিইউ’র সামনে দাঁড়িয়ে।

তিনি বলেন, রাজনীতি হচ্ছে মানুষের জীবন রক্ষার জন্য। জীবন কেড়ে নেয়ার জন্য না। যে জীবন রাজনীতি দ্বারা শেষ হয়ে যায়, সে রাজনীতি কাম্য না। আপনারা সকলে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসুন। আমার ছেলের সাথে যে ঘটনা ঘটেছে এটা যাতে আর কারও সাথে না ঘটে। আপনারা যেন এখান থেকে সফল ডাক্তার হয়ে বের হয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেন সেই কামনা করি।

এদিকে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় এবার পাল্টা মামলা করেছে ছাত্রলীগের অপর পক্ষ। চমেক ছাত্রাবাসে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগে নগরীর চকবাজার থানায় এ মামলা করা হয়েছে। সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মী ও চমেক শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান (২২) এ মামলার বাদী। মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা সবাই শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী। চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস জাহান মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ অক্টোবর রাত ১১টায় চমেক প্রধান ছাত্রাবাসে চাপাতি, হকিস্টিক, কিরিচ নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে কয়েকজনের ওপর অতর্কিত হামলা করে উপমন্ত্রী নওফেলের অনুসারীরা। হামলায় মাহফুজুল হক ও নাইমুল ইসলাম নামে নাছির অনুসারী ছাত্রলীগের দুজন কর্মী আহত হয়।

আহত দুইজন চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার রাতের এ ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে চমেক প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় মাহাদি জে আকিবের ওপর হামলা করে নাছির অনুসারীরা। এমবিবিএস ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহাদি জে আকিব উপমন্ত্রী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। মাহাদির ওপর হামলার ঘটনায় শনিবার রাতেই নওফেল অনুসারী তৌফিকুর রহমান বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনকে আসামি করা হয় ওই মামলায়। আসামিরা সবাই সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...