ঢাকা ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গুচ্ছ পরীক্ষার সিলেকশন পদ্ধতি বাতিলের দাবি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট : ০২:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ অগাস্ট ২০২১
  • / 112
গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় সিলেকশন পদ্ধতি বাতিল করে প্রাথমিকভাবে আবেদন করা সকল শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসার সুযোগের দাবি জানিয়েছেন গুচ্ছ পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক একদল শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সমাবেশে এ দাবি জানায় তারা।

এর আগে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আসে তারা।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রাথমিকভাবে আবেদন করে মোট ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪০৬ শিক্ষার্থী। বিজ্ঞান বিভাগে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪১ জন, মানবিক বিভাগে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩৩ জন এবং বাণিজ্য বিভাগে আবেদন করে ৫৮ হাজার ৬৩২ শিক্ষার্থী।

গত ২৫ আগস্ট সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গুচ্ছভুক্ত ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদনের ফলাফল প্রকাশিত কয়েছে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটি। ফলাফলে মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের সকল শিক্ষার্থী চূড়ান্ত আবেদন করার সুযোগ পেলেও প্রাথমিক সিলেকশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রায় ৬৪ হাজার শিক্ষার্থীকে বাদ দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবি, যেখানে শুধু এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় বসবে দেড় লাখের বেশি শিক্ষার্থী, সেখানে ২০ বিশ্ববিদ্যালয় মিলে বিজ্ঞান বিভাগের ১ লাখ ৯৪ হাজার শিক্ষার্থীর পরীক্ষা কেনো নিতে পারবে না। সিলেকশনের মাধ্যমে যাদের বাদ দেয়া হয়েছে তারা অনেকে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিচ্ছে। তারা কোথায় যাবে।

সমাবেশে কুমিল্লা থেকে আসা উম্মে হাবিবা বলেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারটি একটি হয়রানি। তারা আমাদের হয়রানি করছে। আমরা কর্তৃপক্ষকে বলছি না যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের এমনিতেই ভর্তি নিয়ে নিন বরং আমরা ভর্তি পরীক্ষায় বসতে চেয়েছি৷ আমরা ভর্তি পরীক্ষায় বসার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতার যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাই৷ আমাদের দাবি একটিই।

তিনি বলেন, আজকে আমাকে যদি কোথাও ভর্তি পরীক্ষায় না বসেই পড়াশোনা থেকে ছিটকে ফেলানো হয়, তাহলে সেটি আমাদের প্রতি অন্যায়। গুচ্ছ পদ্ধতি নাকি শিক্ষার্থীদের হয়রানি দূর করতে করা হয়েছে। অথচ পুরো প্রক্রিয়াতেই আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষায় বসার জন্য আমাদের আজকে বিষের বোতল নিতে হচ্ছে। আমাদের পড়ার টেবিল বসার পরিবেশ তৈরি করে দিন। সিলেকশন পদ্ধতি বাতিল করে দিন।

জাহিদ হাসান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আমরা ১ লাখ ৯৪ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছে। আমাদের দাবি, সকলকেই যাতে ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেয়া হয়। কর্তৃপক্ষ চাইলেই আমাদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিতে পারে। কিন্তু আমাদের কিছু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার আগেই বাদ দিয়ে আমাদের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে। আমরা প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষায় বসতে চাই।

এদিকে আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর থেকে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত আবেদন গ্রহণ শুরু হচ্ছে। চূড়ান্ত আবেদনের জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (https://gstadmission.ac.bd) থেকে এ আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণ চলবে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তাছাড়া ভর্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গুচ্ছ পরীক্ষার সিলেকশন পদ্ধতি বাতিলের দাবি

আপডেট : ০২:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ অগাস্ট ২০২১
গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় সিলেকশন পদ্ধতি বাতিল করে প্রাথমিকভাবে আবেদন করা সকল শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসার সুযোগের দাবি জানিয়েছেন গুচ্ছ পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক একদল শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সমাবেশে এ দাবি জানায় তারা।

এর আগে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আসে তারা।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রাথমিকভাবে আবেদন করে মোট ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪০৬ শিক্ষার্থী। বিজ্ঞান বিভাগে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪১ জন, মানবিক বিভাগে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩৩ জন এবং বাণিজ্য বিভাগে আবেদন করে ৫৮ হাজার ৬৩২ শিক্ষার্থী।

গত ২৫ আগস্ট সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গুচ্ছভুক্ত ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদনের ফলাফল প্রকাশিত কয়েছে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটি। ফলাফলে মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের সকল শিক্ষার্থী চূড়ান্ত আবেদন করার সুযোগ পেলেও প্রাথমিক সিলেকশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রায় ৬৪ হাজার শিক্ষার্থীকে বাদ দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবি, যেখানে শুধু এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় বসবে দেড় লাখের বেশি শিক্ষার্থী, সেখানে ২০ বিশ্ববিদ্যালয় মিলে বিজ্ঞান বিভাগের ১ লাখ ৯৪ হাজার শিক্ষার্থীর পরীক্ষা কেনো নিতে পারবে না। সিলেকশনের মাধ্যমে যাদের বাদ দেয়া হয়েছে তারা অনেকে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিচ্ছে। তারা কোথায় যাবে।

সমাবেশে কুমিল্লা থেকে আসা উম্মে হাবিবা বলেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারটি একটি হয়রানি। তারা আমাদের হয়রানি করছে। আমরা কর্তৃপক্ষকে বলছি না যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের এমনিতেই ভর্তি নিয়ে নিন বরং আমরা ভর্তি পরীক্ষায় বসতে চেয়েছি৷ আমরা ভর্তি পরীক্ষায় বসার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতার যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাই৷ আমাদের দাবি একটিই।

তিনি বলেন, আজকে আমাকে যদি কোথাও ভর্তি পরীক্ষায় না বসেই পড়াশোনা থেকে ছিটকে ফেলানো হয়, তাহলে সেটি আমাদের প্রতি অন্যায়। গুচ্ছ পদ্ধতি নাকি শিক্ষার্থীদের হয়রানি দূর করতে করা হয়েছে। অথচ পুরো প্রক্রিয়াতেই আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষায় বসার জন্য আমাদের আজকে বিষের বোতল নিতে হচ্ছে। আমাদের পড়ার টেবিল বসার পরিবেশ তৈরি করে দিন। সিলেকশন পদ্ধতি বাতিল করে দিন।

জাহিদ হাসান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আমরা ১ লাখ ৯৪ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছে। আমাদের দাবি, সকলকেই যাতে ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেয়া হয়। কর্তৃপক্ষ চাইলেই আমাদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিতে পারে। কিন্তু আমাদের কিছু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার আগেই বাদ দিয়ে আমাদের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে। আমরা প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষায় বসতে চাই।

এদিকে আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর থেকে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত আবেদন গ্রহণ শুরু হচ্ছে। চূড়ান্ত আবেদনের জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (https://gstadmission.ac.bd) থেকে এ আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণ চলবে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তাছাড়া ভর্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।