৯ বছর পর ‍‘উদ্ধার’ হয়েও কারাগারে রাসেল

বরিশাল প্রতিনিধি;
  • প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২:৩০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে
No Caption

বরিশালের গৌরনদী মডেল থানায় ৯ বছর আগের অপহরণ মামলায় কথিত অপহৃতকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে মামলার আসামি। আসামির দাবি, তাদের হেনস্তা করতেই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্পেশাল পিপি ফয়জুল হক বলেন, উদ্ধারকৃত রাসেল মৃধাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আরেকটি অপহরণ মামলার আসামি হওয়ায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। যে মামলায় তাকে ‍উদ্ধার দেখানো হয়েছে, সেই মামলায় রাসেলকে তার নিজ জিম্মায় জামিন দেয়া হয়।

গৌরনদীর কলাবাড়িয়া গ্রামের ১৪ বছর বয়সের কিশোর রাসেল মৃধাকে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে ২০১২ সালে গৌরনদীর থানায় মামলা দায়ের করেন তার মা মনোয়ারা বেগম। রাসেল ওই গ্রামের বাসিন্দা জালাল মৃধার ছেলে। রাসেল অপহরণ মামলায় ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৩ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দেন গৌরনদী থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক ফোরকান হোসেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ৫ আসামি দীর্ঘদিন হাজতবাস করে বাকি ৯ জন এখনও পলাতক।

এ অবস্থায় গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ থেকে অপহৃতকে উদ্ধার করে ২১ সেপ্টেম্বর গৌরনদী থানায় সোপর্দ করে মামলার ১ নম্বর আসামি এস. রহমান।

রাসেলের বোন তসলিমা বেগম বলেন, তাদের ২০ কাঠা জমি নিয়ে স্বজনদের সাথে বিরোধ রয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে উভয়পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ১২টি মামলা দায়ের করেছে। যার সব শেষটি রাসেল অপহরণ মামলা। তার দাবি, অপহরণকারীরাই তার ভাইকে থানায় ফেরত দিয়েছে।

মামলার ‍১ নং আসামি ‍এস. রহমান বলেন, জমি নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলার জের ধরে সবশেষ রাসেলকে আত্মগোপনে রেখে তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দেয়া হয়। মামলায় নির্দোষভাবে অনেকে কারাভোগ করেছে। মামলার খরচ চালাতে গিয়ে তারা নিঃস্ব হয়েছে। আসামি পরিবারগুলো মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে নিজেরা উদ্যোগী হয়ে রাসেলকে খুঁজে পুলিশে সোপর্দ করেন।

অপহরণ ও গুম মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সরিকল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক ফোরকান হোসেন জানান, ২০১২ সালের মে মাসে গৌরনদী মডেল থানায় রাসেল মৃধাকে অপহরণ করে হত্যার পর লাশ গুমের মামলা হয়। মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়। ২০১৩ সালে শেষের দিকে এজাহারভুক্ত ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

ভিকটিম জীবিত থাকার পরেও তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া প্রসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, মামলার তদন্তকালে ১২ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। তাতে যে তথ্য পাওয়া গেছে তার ভিত্তিতেই অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...