জবি শিক্ষার্থী স্বর্ণার আত্মহত্যা: যথাযথ কারণ ছাড়াই শিক্ষককে দায়ী!

;
  • প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

No Caption

জবি প্রতিনিধি
চলতি মাসে আত্মহত্যা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া মেহজাবিন স্বর্ণা। গত ২০ অক্টোবর সকালে সাতক্ষীরা জেলার পলাশ পোল মধুমোল্লার ডাঙ্গী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে স্বর্ণার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে স্বর্ণার আত্মহত্যার পেছনে কোন কারণ জানা না গেলেও ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক আয়েশা সালেহ এসাইনমেন্ট নিয়ে চাপ দেওয়া এবং এসাইনমেন্টে নাম্বার কম দেওয়ায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে স্বর্ণা আত্মহত্যা করেছে বলে ঢালাওভাবে প্রচার করা হয়।
তবে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ও ভুল বলে দাবি করেছেন সেই শিক্ষক।পাশাপাশি বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবি আয়েশা সালেহ শিক্ষক হিসেবে ছিলেন বন্ধুসুলভ। বিষয়টি অতিরঞ্জিত করে তাকে ভুক্তভোগী বানানো হয়েছে।

এদিকে যাচাই বাছাই না করেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢালাওভাবে লেখালেখি করায় এবং কিছু অনলাইন পোর্টালে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে নিউজ করায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন সেই শিক্ষক।
জানা যায়, স্বর্ণার আত্মহত্যার পর তার বোন সাদিয়া মেহজাবিন সাথী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে লিখেন,‘আর কত? আর কত? সবচেয়ে পরিশ্রমী, মেধাবী বাচ্চাটা সবচেয়ে কম নম্বর কী করে পায়? ২ মাস আগে জমাকৃত অ্যাসাইনমেন্ট কিভাবে হারিয়ে ফেলে? আর সেটা জমা দেওয়ার জন্য কিভাবে ৩০ মিনিট সময়কে যথার্থ মনে করা হয়? আমার বাইকার, স্পিকার, স্বতঃস্ফূর্ত বাবুটা কিভাবে নিশ্চুপ হয়ে গেলো? জবাব চাই।’
তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরেকটি পোস্টের মাধ্যমে সাদিয়া মেহজাবিন লিখেন, আমার ও আমার পরিবারের প্রতি কারও কোন ক্ষোভ নেই। আমরা বাবুসোনার (স্বর্ণা) পরিণতির জন্য কাউকে দায়ী করছিনা। আমরা সরাসরি কোন ম্যামের নাম বলিনি তাও আয়েশা সালেহ ম্যামের নাম ছড়িয়েছে।
অপরদিকে স্বর্ণার আত্মহত্যার ঘটনায় সহকারী অধ্যাপক আয়েশা সালেহের নাম জড়ানোর পর থেকেই ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন পোস্ট দিতে থাকেন।
এ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক আয়েশা সালেহ বলেন, ‘সুমাইয়া মেহজাবিন স্বর্ণার আত্মহত্যার ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে কিছু অনলাইন পোর্টালে ভিত্তিহীনভাবে রিপোর্ট প্রকাশিত হবার পর আমি নিজেই এক প্রকার মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। রিপোর্টে দুই মাস আগে যে এসাইনমেন্টের কথা বলা হয়েছে সেটি কোন এসাইনমেন্ট ছিলনা। সেটি ছিল ২০ মার্কের মিডটার্ম পরীক্ষা। পরীক্ষার খাতা জমা দেওয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রায় সকল শিক্ষার্থীই খাতা ক্যামস্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করে অথবা ছবি তুলে ফাইল এটাচ করে ই-মেইলে পাঠিয়েছে।’
তিনি বলেন, স্বর্ণাসহ কিছু শিক্ষার্থী শুধুমাত্র ক্যামস্ক্যানার লিংক মেইল করে পাঠিয়েছিল যা অনেকবার চেষ্টা করেও ওপেন করা সম্ভব হয়নি। খাতা হারানোর বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। যেহেতু মেইলের লিংক ওপেন হয়নি তাই সিআরের মাধ্যমে সেসব শিক্ষার্থীদেরকে পুনরায় খাতা ফাইল করে ৩ অক্টোবর রাতের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছিল। স্বর্ণাসহ সব শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়েই পুনরায় ফাইল পাঠিয়েছিল। সেখানে স্বর্ণা ১০ নাম্বারের একটিমাত্র প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ৮ নম্বর পেয়েছে। যা স্বাভাবিকভাবেই ভালো নাম্বার হিসেবেই ধরা হয়। এসাইনমেন্টের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ৪ অক্টোবর। আর স্বর্ণা আত্মহত্যা করেছে ২০ অক্টোবর। এসাইনমেন্টের বিষয়ের সঙ্গে আত্মহত্যার বিষয়টিকে জড়ানো অমূলক। পাশাপাশি শিক্ষক হিসেবে স্বর্ণার আত্মহত্যার পিছনে মূল কারণ কি তা তদন্তের দাবি জানাই।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা আমার কাছে নিজের সন্তানের মতো। বিভাগে কোনদিন কারো সাথে আমার সামান্য তর্কও হয়নি। তাও আমাকে এ বিষয়ে জড়িয়ে কেন হয়রানি করা হচ্ছে তা আমি জানিনা।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্বর্ণার একাধিক ক্লাসমেট জানায়, এসাইনমেন্ট নিয়ে ম্যাম স্বর্ণাকে কোন প্রকার চাপ প্রয়োগ করেনি। বরং পুনরায় এসাইনমেন্ট ফাইল পাঠানোর জন্য সময় দিয়েছিল। সবাই সময় অনুযায়ী পুনরায় এসাইনমেন্ট পাঠিয়েছিল। চাপ প্রয়োগের বিষয়টি সত্য নয়। স্বর্ণা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয় এমন কিছু ম্যাম করেনি।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...