ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জুন ২০২৩, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মাদক-জুয়ায় স্ত্রীর টাকা উড়াতেন ঘাতক স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৭:৫৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ মার্চ ২০২২
  • / 77
প্রবাসফেরত স্ত্রীর কাছ থেকে বিদেশ যাওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে মাদক-জুয়ায় তা উড়াতেন শান্ত মল্লিক। সেই টাকার হিসাব চাওয়ায় গলায় দড়ি পেঁচিয়ে স্ত্রী পারুল আক্তারকে খুন করে পালিয়ে যান তিনি। তবে শেষরক্ষা হয়নি।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হবার পর শান্ত মল্লিক তার স্ত্রীরকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

সিআইডির এলআইসি শাখার অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার খায়রুল আমিন বলছেন, স্ত্রী পারুল আক্তারের টাকায় মাদক সেবন ও জুয়া খেলতেন শান্ত মল্লিক। এ নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ হত। পারুল টাকার হিসাব চাইলে শান্ত তার গলায় দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

শনিবার রাতে শরিয়তপুরের পালং থানা এলাকা থেকে শান্তকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। রোববার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরেন খায়রুল আমিন।

তিনি বলেন, টঙ্গীর দাড়াইল এলাকায় থাকতেন পারুল ও শান্ত। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকালের মধ্যে কোনো এক সময় পারুলকে হত্যা করা হয়। পরে তার বাবা আলী আহম্মদ টঙ্গী পশ্চিম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

খায়রুল আমিন বলেন, পারুল আক্তার প্রায় সাত বছর জর্ডানে চাকরি করে টঙ্গীর দাড়াইল এলাকায় নিজের নামে জমি কিনে বাড়ি বানিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তিনি জর্ডানে থাকাকালে শান্তর বোন তামান্নার সঙ্গে পারুলের বন্ধুত্ব হয়। সেই সুবাদে পর শান্তর সঙ্গে পারুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

প্রায় সাত মাস আগে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে শান্ত ও পারুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর শান্ত বিদেশে যাওয়ার কথা বলে পারুলের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ও পাঁচ ভরি স্বর্ণ নিয়ে সেসব দিয়ে নেশা করে ও জুয়া খেলে শেষ করে ফেলে।

পুলিশ কর্মকর্তা খায়রুল আমিন বলেন, এ ঘটনার বেশ কিছুদিন পর ২৭ ফেব্রুয়ারি পারুল শান্তর কাছে তার বিদেশ যাওয়া এবং তার কাছ থেকে নেয়া টাকা ও স্বর্ণালংকারের বিষয়ে জানতে চাইলে দুজনের মধ্যে ঝগড়াবিবাদ শুরু হয়। এক পর্যায়ে শান্ত মল্লিক পারুলের গলায় দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ফেলে রেখে ঘরের দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মাদক-জুয়ায় স্ত্রীর টাকা উড়াতেন ঘাতক স্বামী

আপডেট : ০৭:৫৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ মার্চ ২০২২
প্রবাসফেরত স্ত্রীর কাছ থেকে বিদেশ যাওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে মাদক-জুয়ায় তা উড়াতেন শান্ত মল্লিক। সেই টাকার হিসাব চাওয়ায় গলায় দড়ি পেঁচিয়ে স্ত্রী পারুল আক্তারকে খুন করে পালিয়ে যান তিনি। তবে শেষরক্ষা হয়নি।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হবার পর শান্ত মল্লিক তার স্ত্রীরকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

সিআইডির এলআইসি শাখার অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার খায়রুল আমিন বলছেন, স্ত্রী পারুল আক্তারের টাকায় মাদক সেবন ও জুয়া খেলতেন শান্ত মল্লিক। এ নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ হত। পারুল টাকার হিসাব চাইলে শান্ত তার গলায় দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

শনিবার রাতে শরিয়তপুরের পালং থানা এলাকা থেকে শান্তকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। রোববার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরেন খায়রুল আমিন।

তিনি বলেন, টঙ্গীর দাড়াইল এলাকায় থাকতেন পারুল ও শান্ত। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকালের মধ্যে কোনো এক সময় পারুলকে হত্যা করা হয়। পরে তার বাবা আলী আহম্মদ টঙ্গী পশ্চিম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

খায়রুল আমিন বলেন, পারুল আক্তার প্রায় সাত বছর জর্ডানে চাকরি করে টঙ্গীর দাড়াইল এলাকায় নিজের নামে জমি কিনে বাড়ি বানিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তিনি জর্ডানে থাকাকালে শান্তর বোন তামান্নার সঙ্গে পারুলের বন্ধুত্ব হয়। সেই সুবাদে পর শান্তর সঙ্গে পারুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

প্রায় সাত মাস আগে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে শান্ত ও পারুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর শান্ত বিদেশে যাওয়ার কথা বলে পারুলের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ও পাঁচ ভরি স্বর্ণ নিয়ে সেসব দিয়ে নেশা করে ও জুয়া খেলে শেষ করে ফেলে।

পুলিশ কর্মকর্তা খায়রুল আমিন বলেন, এ ঘটনার বেশ কিছুদিন পর ২৭ ফেব্রুয়ারি পারুল শান্তর কাছে তার বিদেশ যাওয়া এবং তার কাছ থেকে নেয়া টাকা ও স্বর্ণালংকারের বিষয়ে জানতে চাইলে দুজনের মধ্যে ঝগড়াবিবাদ শুরু হয়। এক পর্যায়ে শান্ত মল্লিক পারুলের গলায় দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ফেলে রেখে ঘরের দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়।