তেলের দাম বাড়ায় ‘মারাত্মক বিরূপ প্রভাব’ পড়বে জীবন-জীবিকায়

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি;
  • প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২১, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ৪ সপ্তাহ আগে

ছবি সংগৃহীত

ভোজ্য তেলের সাথে লাফিয়ে বেড়েছে জ্বালনি তেলের দামও। এক লাফে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ৬৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা। শুধু তাই নয়, দফায় দফায় বেড়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ পানির দামও। এমতাবস্থায় সবমিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকা দুর্বিসহ হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে নাজের হোসাইন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ক্রমবর্ধমান অজুহাতে বুধবার নির্বাহী আদেশে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য প্রতি লিটার ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করেছে। তবে অকটেনের দাম ৮৯ টাকা ও পেট্রোলের দাম আগের মতোই প্রতি লিটার ৮৬ টাকা থাকছে। জ্বালানি তেলের বৃদ্ধি জনজীবনে মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে, নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন ছড়াবে।

‘নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি বিশেষ করে ভোজ্যতেল, চাল, চিনি, সবজির দামের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকায় নাভিশ্বাস। এর সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। বেড়েছে ডলারের অস্বাভাবিক দামও। কয়েকদিন আগে সীমিত আয়ের মানুষের ভরসাস্থল টিসিবর পণ্যের দামও বাড়ানো হল। এ অবস্থায় কেরোসিন এবং ডিজেলের দামবৃদ্ধি ভোক্তা পর্যায়ে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলবে।’

দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্য পরিবহন, যাতায়াত খাতে ব্যয় বৃদ্ধি থেকে শুরু করে প্রতিটি পণ্য ও সেবার দাম ব্যবসায়ীরা বাড়িয়ে দিয়ে জনজীবনে মারাত্মক দুর্ভোগ সৃষ্টি করবে বলে মত প্রকাশ করে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক যন্ত্রণা থেকে সাধারণ মানুষকে রেহাই দিতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহর করা উচিত বলে মনে করেন নাজের হোসাইন।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে কেরোসিন এবং ডিজেল তেলের দাম কমতির দিকে ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে এখন দাম বাড়িয়ে দিল। দাম যখন কম ছিল তখন সরকার বাংলাদেশে দাম সমন্বয় করেনি। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে এখন দাম বাড়িয়ে দিল। দাম সমন্বয় না হওয়াতে এখন বাজারে বিরুপ প্রভাব দেখা দিবে। সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে যদি নিয়মিত সমন্বয় করতো তাহলে সেটার একটা অবস্থা তৈরি হতো। এখন হঠাৎ করে দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিবে ব্যবসায়ীরা।

বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাজের বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকার সাথে যুক্ত ডিজেল ও কেরোসিন তেলের দাম বাড়ালেও অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়ায়নি। ফলশ্রুতিতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠি সাধারণ ভোক্তাদের সাথে ন্যায্য বিচার করতে সক্ষম হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সরকার ১ নভেম্বর থেকে ভারতের ডিজেল ও পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দিলেও আনন্দবাজার পত্রিকা আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রোলে লিটার প্রতি ৫ রুপি ও ডিজেলে ১০ রুপি হারে উৎপাদন শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আশা করি সরকার ভারতের দৃষ্টান্তটি বিবেচনায় আনবে।

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, সরকার আর্ন্তজাতিক বাজারে তেলের দামবৃদ্ধি, বিশ্বব্যাংক, এডিবিও আইএমএফ’র পরামর্শে জ্বালানি খাতে ভুর্তকি হ্রাস ও ভারতে তেল পাচার হয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি বাহানা তুলে দেশের জনগণের ওপর বর্ধিত মূল্য চাপিয়ে দিলেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় সাধারণ জনগণের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘা হবে, সে বিষয়ে নজর না দিয়ে বহুজাতিক গোষ্ঠীর নিয়োগকৃত গুটি কয়েক বিশেষজ্ঞের পরামর্শে সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী যা সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও সরকারের সাথে সাধারণ জনগণের দূরত্বকে বহুগুন বাড়িয়ে দিবে।

তিনি বলেন, আর্ন্তজাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাতে বাংলাদেশ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঘোষণার সাথে সাথে বাজারে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন লেগে যাবে, হু হু করে সকল খাদ্য-পণ্য ও সেবা সার্ভিসের মূল্য বেড়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হবে। সরকার জ্বালানি খাতে ভুর্তকি হ্রাসের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে এর প্রতিক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকা দুর্বিসহ হয়ে উঠবে যা খুবই ভয়াবহ হতে পারে।

‘অন্যদিকে বিগত বেশ কিছুদিন ধরে আর্ন্তজাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশের বাজারে তার প্রতিফলন ঘটেনি। এ অবস্থায় এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনের গণশুনানি ব্যাতিরেকে সরকারের নির্বাহী আদেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণাকে হতাশাজনক বলে অবিলম্বে এ ধরণের হটকারি সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাই।’

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...