প্রদীপের ডিভিশন আবেদন, কারাবিধি অনুসারে ব্যবস্থার নির্দেশ

কক্সবাজার প্রতিনিধি;
  • প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে
সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। ফাইল ছবি

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের কারাগারে ডিভিশন চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন তার আইনজীবী। আদালত এ ব্যাপারে কারাবিধি মতে ব্যবস্থা গ্রহণের নিদের্শ দিয়েছেন।

একইসঙ্গে এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনটি মামলার নথিভুক্ত করার আবেদনও জানানো হয়। তবে এ ব্যাপারে আদালত কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান করেননি।

মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় তৃতীয় দিনে পঞ্চম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণকালে প্রদীপের আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত আবেদন দুটি করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনটি রাষ্ট্রীয়। এটা জুডিশিয়াল না। তবে আদালত চাইলে এটা তলব করতে পারেন। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আদালতে।

আজ মঙ্গলবার সাক্ষ্য দিয়েছেন টেকনাফের শাপলাপুরের ঘটনাস্থল নিকটবর্তী জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন মো. আমিন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। বিকেল ৫টার দিকে জেরা শেষ হয়। সকাল ১০টার কিছু সময় পর জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে ৫ম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ৩ সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মামলার ১৫ আসামিকে প্রিজেনভ্যান করে কড়া পুলিশি পাহারায় আদালতে আনা হয়।

এর আগে গত ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত মামলার প্রথম দফার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এতে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস এবং ২ নম্বর সাক্ষী ঘটনার সময় সিনহার সঙ্গে একই গাড়িতে থাকা সঙ্গী সাহেদুল সিফাত। রোববার দ্বিতীয় দফায় প্রথম দিনে মামলার ৩ নম্বর সাক্ষী মোহাম্মদ আলীর এবং সোমবার আদালতে চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে কামাল হোসেনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। মামলায় ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে পর্যন্ত ৪ জনের সাক্ষ্য প্রদান শেষ হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কস্থ বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় গত বছর ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লিয়াকত আলীকে। আদালত মামলার তদন্তভার দেয়া হয় র‍্যাবকে।

গত বছর ১৩ ডিসেম্বর র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ানের তৎকালীন দায়িত্বরত সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত ২৭ জুন আদালত ১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এতে সাক্ষী করা হয় ৮৩ জনকে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...