ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মিরসরাইয়ে আগুনে পুড়ে ছাই হলো ৫ পরিবারের বসতঘর

মিরসরাই উপজেলার ৫ নং ওচমানপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের পূর্ব সাহেবপুর গ্রামের আমীর আলী সওদাগর বাড়ীতে আগুন লেগে ৫ পরিবারের ১৫ কক্ষবিশিষ্ট বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (১ আগস্ট) বেলা ১১ টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে প্রায় ১২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্তরা সবাই দিনমজুর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা ১১ টার দিকে মাদল হকের বসতঘর থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর একে একে সুজাউল হকের পুত্র একরামুল হক, দেলোয়ার হোসেনের পুত্র আমিনুল হক, সাইদুল হক, মাদল হক, সাহাব উদ্দিনের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

আগুনে একরামুল হকের জমি কেনার জন্য বসতঘরে রাখা নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা অপরদিকে আমিনুল হকের মেয়ের বিয়ের জন্য রাখা নগদ ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকাও পুড়ে যায়। অগ্নিকান্ডে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা, আসবাবপত্র ও মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে প্রায় ১২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুন নেভাতে ছুটে আসে স্থানীয় এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যখন পৌঁছে ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ওচমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল হক, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাহাত মোর্শেদ, স্থানীয় ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সঞ্জয় মল্লিক। এসময় চেয়ারম্যান মফিজুল হক ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ আমিনুল হক বলেন, ‘১৫ কক্ষের বসতঘরটিতে আমাদের ৫ ভাইয়ের বসতি। মাদল হকের বসতঘর থেকে বেলা ১১ টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। আমাদের ভাইয়েরা সবাই দিনমজুর। বসতঘরটির একাংশ ৪ বছর পূর্বে এবং একাংশ ২ বছর পূর্বে নির্মাণ করি আমরা। আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর মতো তেমন কোন সুযোগ নেই। তাই সমাজের বিত্তশালীদের প্রতি অনুরোধ করছি আপনাদের আর্থিক সহযোগিতায় আমরা পুণরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো।’

ওচমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সঞ্জয় মল্লিক জানান, অগ্নিকান্ডে ৫ পরিবারের ১৫ কক্ষের বসতঘর পুড়ে প্রায় ১২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা সবাই দিনমজুর, আগুনের তারা নিঃস্ব হয়ে গেছে। সমাজের বিত্তশালীরা তাদের পাশে না দাঁড়ালে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। তাই আমি অনুরোধ করবো দলমত নির্বিশেষে সমাজের যারা বিত্তশালী রয়েছেন তারা অগ্নিকান্ডে নিঃস্ব পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ান।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরসরাইয়ে আগুনে পুড়ে ছাই হলো ৫ পরিবারের বসতঘর

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমাবার, ৮ অগাস্ট ২০২২

মিরসরাই উপজেলার ৫ নং ওচমানপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের পূর্ব সাহেবপুর গ্রামের আমীর আলী সওদাগর বাড়ীতে আগুন লেগে ৫ পরিবারের ১৫ কক্ষবিশিষ্ট বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (১ আগস্ট) বেলা ১১ টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে প্রায় ১২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্তরা সবাই দিনমজুর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা ১১ টার দিকে মাদল হকের বসতঘর থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর একে একে সুজাউল হকের পুত্র একরামুল হক, দেলোয়ার হোসেনের পুত্র আমিনুল হক, সাইদুল হক, মাদল হক, সাহাব উদ্দিনের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

আগুনে একরামুল হকের জমি কেনার জন্য বসতঘরে রাখা নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা অপরদিকে আমিনুল হকের মেয়ের বিয়ের জন্য রাখা নগদ ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকাও পুড়ে যায়। অগ্নিকান্ডে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা, আসবাবপত্র ও মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে প্রায় ১২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুন নেভাতে ছুটে আসে স্থানীয় এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যখন পৌঁছে ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ওচমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল হক, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাহাত মোর্শেদ, স্থানীয় ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সঞ্জয় মল্লিক। এসময় চেয়ারম্যান মফিজুল হক ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ আমিনুল হক বলেন, ‘১৫ কক্ষের বসতঘরটিতে আমাদের ৫ ভাইয়ের বসতি। মাদল হকের বসতঘর থেকে বেলা ১১ টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। আমাদের ভাইয়েরা সবাই দিনমজুর। বসতঘরটির একাংশ ৪ বছর পূর্বে এবং একাংশ ২ বছর পূর্বে নির্মাণ করি আমরা। আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর মতো তেমন কোন সুযোগ নেই। তাই সমাজের বিত্তশালীদের প্রতি অনুরোধ করছি আপনাদের আর্থিক সহযোগিতায় আমরা পুণরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো।’

ওচমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সঞ্জয় মল্লিক জানান, অগ্নিকান্ডে ৫ পরিবারের ১৫ কক্ষের বসতঘর পুড়ে প্রায় ১২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা সবাই দিনমজুর, আগুনের তারা নিঃস্ব হয়ে গেছে। সমাজের বিত্তশালীরা তাদের পাশে না দাঁড়ালে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। তাই আমি অনুরোধ করবো দলমত নির্বিশেষে সমাজের যারা বিত্তশালী রয়েছেন তারা অগ্নিকান্ডে নিঃস্ব পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ান।