একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তি কেবল উচ্চ জিপিএ বা পাস অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর আসল সাফল্য নিহিত থাকে সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ গঠনের ওপর। নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী দেলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে আজ ঠিক সেই আদর্শেরই এক বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকবৃন্দের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি এখন শৃঙ্খলা ও মানসম্মত শিক্ষার এক অনন্য মডেলে পরিণত হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষাঙ্গনের ধারাবাহিক এই আমূল পরিবর্তনের নেপথ্যে মূল ভূমিকা রাখছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান নুর, দাতা সদস্য হাফেজ আহমেদ খোকা, অভিভাবক সদস্য তৌহিদ আহমেদ, নজরুল ইসলাম মামুন, মো. নাছির প্রধান এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অর্জুন চন্দ্র ঘোষ। তাঁদের কঠোর অথচ স্নেহশীল দূরদর্শিতা এবং নিরলস পরিশ্রমে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টি।
শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অর্জুন চন্দ্র ঘোষ ম্যানেজিং কমিটির আন্তরিক সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ সংস্কারে হাত দেন। শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসে পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা এবং ইভটিজিং ও ‘কিশোর গ্যাং’-এর মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে তিনি একাধিক কার্যকরী ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নেন।
শাস্তির বদলে মানবিক কাউন্সেলিং
সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আশ্রয় নেওয়া হলেও, দেলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় হেঁটেছে ব্যতিক্রমী পথে। ম্যানেজিং কমিটির দিকনির্দেশনায় প্রধান শিক্ষক অর্জুন চন্দ্র ঘোষ দমনপীড়ন নয়, বরং বেছে নিয়েছেন ‘মানবিক কাউন্সেলিং’।
কোনো শিক্ষার্থী পথভ্রষ্ট হলে বা ভুল করলে তাকে কড়া শাস্তি না দিয়ে পরম মমতায় ডেকে নিয়ে কাউন্সেলিং করা হচ্ছে। সন্তানের মতো ভালোবেসে বুঝিয়ে তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের এমন মানবিক ও সচ্ছল আচরণ শিক্ষার্থীদের মনে ভয় নয়, বরং গভীর শ্রদ্ধাবোধের জন্ম দিয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা এখন নিজেরাই স্কুলের পরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাঙ্গনের মজবুত বন্ধন
বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের পাশাপাশি ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে অভিভাবক ও শিক্ষক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও। নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সমস্যার খোঁজখবর রাখা এবং সহকারী শিক্ষকদের মাঝে টিমরওয়ার্ক তৈরির মাধ্যমে একটি মজবুত আত্মিক বন্ধন গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।
এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের সাধুবাদ
ম্যানেজিং কমিটির গতিশীল ভূমিকা এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এমন মানবিক নেতৃত্বের ইতিবাচক ফল পাচ্ছেন পুরো এলাকাবাসী। সার্বিক এই পরিবর্তনে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিক সমাজ।
স্থানীয়দের মতে, একটি দক্ষ ম্যানেজিং কমিটি এবং অর্জুন চন্দ্র ঘোষের মতো একজন আদর্শ শিক্ষকের হাত ধরেই আগামী দিনে গড়ে উঠবে একটি সুশৃঙ্খল ও আদর্শ বাংলাদেশ। দেলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এই যৌথ ও অনুকরণীয় সাফল্য দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
