বুধবার, ৪ঠা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংঘাতের নির্মম সত্য ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা: বিচারহীনতার অন্ধকার ভেদ করে ন্যায়বিচারের ডাক

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সাংবাদিকতা কেবল পেশা নয়; এটি মানবতা, বিবেক এবং সত্য প্রতিষ্ঠার এক আজীবন সংগ্রাম। কিন্তু এই সংগ্রাম যখন বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ময়দান, জাতিগত সংঘাত কিংবা চরম বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হয়, তখন তা রূপ নেয় এক ভয়ংকর জীবনপণ লড়াইয়ে। প্রতিবছর আন্তর্জাতিকভাবে ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারহীনতা অবসানের দিবস’ পালিত হয়। এই বিশেষ দিনটি কেবল আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় না যে সাংবাদিকরা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে দায়িত্ব পালন করেন, বরং এটি জোরালো বার্তা দেয়—সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে যাঁরা জীবন বাজি রাখেন, তাঁদের সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

বিশেষ করে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সংঘটিত যৌন সহিংসতার মতো ঘৃণ্য ও লোমহর্ষক অপরাধগুলোকে আলোর মুখে নিয়ে আসার কাজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ক্ষমতার অপব্যবহার, অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং ভয়ের রাজত্বের মাঝে দাঁড়িয়ে যখন কোনো সাহসী সাংবাদিক যুদ্ধাপরাধ কিংবা এ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার মানুষের আর্তনাদ বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করেন, তখন তিনি কেবল সংবাদ পরিবেশন করেন না, বরং অপরাধীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করান।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, বিগত বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন এবং হত্যার ঘটনা বাড়লেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তোলে। যখনই একজন সাহসী সাংবাদিককে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়, তখন পুরো সমাজ একটি বড় সত্য থেকে বঞ্চিত হয়। পক্ষান্তরে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিটি পদক্ষেপ সংঘাত ও নির্যাতনের শিকার মানুষদের (survivors) মনে বেঁচে থাকার সাহস জোগায় এবং ন্যায়বিচারের পথকে প্রশস্ত করে।

আজকের এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে এটি স্পষ্ট যে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে কেবল কোনো বিশেষ পেশাজীবীর সুরক্ষা নয়; এর অর্থ হলো গণমানুষের বাকস্বাধীনতা এবং সত্য জানার মৌলিক অধিকারকে রক্ষা করা। সংঘাতকবলিত অঞ্চলে সাংবাদিকদের অবাধ ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ তৈরি করতে আন্তর্জাতিক আইনগুলোর কঠোর প্রয়োগ এবং রাষ্ট্রগুলোর আন্তরিক সদিচ্ছা অপরিহার্য।

তাই সময় এসেছে বিচারহীনতার এই দেওয়াল চিরতরে ভেঙে ফেলার। অপরাধীদের শাস্তির আওতায় এনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যদি আমরা সত্যের এই প্রহরীদের পাশে দাঁড়াতে পারি, তবেই কেবল বঞ্চিত মানুষেরা পাবে প্রকৃত নিরাপত্তা ও সুবিচারের আলো।

লেখক: আরিফুর রহমান

(গণমাধ্যম কর্মী) 

ইমেইল : arifpress45@gmail.com