ঢাকা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রধান শিক্ষককে পেটালেন মেয়র

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট : ০৬:৩৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর ২০২২
  • / 91
এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় নকল করা দুই ছাত্রের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না করায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর মেয়র মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে।

শনিবার দিবাগত রাতে শহরের ঢাকা বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত আরাফাত বোর্ডিং-এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার ওই শিক্ষক জেলা শহরের ঐহিত্যবাহী রাজারামপুর হামিদুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও পৌর আওয়ামী লীগের ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের দপ্তর সম্পাদক সামিউল ইসলাম।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) এসএসসির নির্বাচনিতে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষায় মোবাইল ফোন দেখে নকল করছিল ওই বিদ্যালয়ের দুই পরীক্ষার্থী। পরে পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত শিক্ষকের ঘটনাটি নজরে আসলে তাদের হাতে নাতে ধরে ফেলেন তিনি। পরবর্তীতে অন্য শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা করে নকলের সাথে জড়িত ওই দুই পরীক্ষার্থীকে নিয়ম অনুযায়ী বহিষ্কার করেন প্রধান শিক্ষক।অভিযোগ রয়েছে, বহিষ্কার দুই শিক্ষার্থীর পরিবার মেয়রের ঘনিষ্ট হওয়ার সুবাদে ঘটনার পর থেকে মেয়র নিজে এবং অন্যান্য কাউন্সিলরদের দিয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য নানানভাবে চাপ দিতে থাকেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সামিউল ইসলামকে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক মেয়রকে সাফ জানিয়ে দেন এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার সম্ভব নয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পৌর মেয়র তার দলবল নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের আরাফাত বোর্ডিংয়ে ঢুকে ওই শিক্ষককে বেধড়ক পেটাতে থাকেন।

প্রধান শিক্ষক সামিউল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘শনিবার পৌরসভার মেয়র মোখলেসুর রহমান আমাকে ফোন করে ওই দুই ছাত্রের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন। কিন্তু আমি তাকে বলি এটা করলে নিয়ম লঙ্ঘন হবে। এসময় তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে নানা ধরেণর হুমকি প্রদান করেন। পরবর্তীতে তার লোকজন নিয়ে আরাফাত বোর্ডিংয়ে প্রবেশ করে আমাকে মারধর করে চলে যায়।’

প্রধান শিক্ষক আরও জানান, এ ঘটনায় তিনি এখন পর্যন্ত কোন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও তিনি বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান বাবুকে জানিয়েছেন। আলোচনা সাপেক্ষে এ ব্যপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বাউবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপ-আঞ্চলিক কার্যালয়ের সমন্বয়কারী শামসুজ্জামান বাবু জানান, প্রধান শিক্ষককে মারধরের বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। দাপ্তরিক কাজে ঢাকা থাকায় কোন ব্যবস্থা নিতে পারিনি। এলাকায় গিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল জানান, মারধরের পর তিনি সেখানে উপস্থিত হন এবং সেখানে উত্তেজিত অবস্থা বিরাজ করছিলো। প্রধান শিক্ষক যাতে আবার লাঞ্চিত না হয় সেজন্য লোক মারফত তাকে বাসায় পৌঁছে দেয়। এ সময় পৌর মেয়রসহ সেখানে তার লোকজন উপস্থিত ছিলো। তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে অভিযোগ করলে দলীয়ভাবে মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।এদিকে শিক্ষককে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন পৌরসভার মেয়র মোখলেসুর রহমান। তিনি বলেন, কেউ অভিযোগ করলেই তো সত্য হয়ে যায় না। এমন ঘটনায় আমি জড়িত নই। আমি কাউকে মারধর করিনি।

এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ জানান, প্রধান শিক্ষককে মারধরের বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে প্রত্যেকেরই এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ করা উচিত। যদিও এখন পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে কোন অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ এ বিষয়ে জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আমাকে কিছুই জানায়নি। তবে জানানো উচিত ছিলো। তিনি জানান, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রধান শিক্ষককে পেটালেন মেয়র

আপডেট : ০৬:৩৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর ২০২২
এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় নকল করা দুই ছাত্রের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না করায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর মেয়র মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে।

শনিবার দিবাগত রাতে শহরের ঢাকা বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত আরাফাত বোর্ডিং-এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার ওই শিক্ষক জেলা শহরের ঐহিত্যবাহী রাজারামপুর হামিদুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও পৌর আওয়ামী লীগের ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের দপ্তর সম্পাদক সামিউল ইসলাম।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) এসএসসির নির্বাচনিতে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষায় মোবাইল ফোন দেখে নকল করছিল ওই বিদ্যালয়ের দুই পরীক্ষার্থী। পরে পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত শিক্ষকের ঘটনাটি নজরে আসলে তাদের হাতে নাতে ধরে ফেলেন তিনি। পরবর্তীতে অন্য শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা করে নকলের সাথে জড়িত ওই দুই পরীক্ষার্থীকে নিয়ম অনুযায়ী বহিষ্কার করেন প্রধান শিক্ষক।অভিযোগ রয়েছে, বহিষ্কার দুই শিক্ষার্থীর পরিবার মেয়রের ঘনিষ্ট হওয়ার সুবাদে ঘটনার পর থেকে মেয়র নিজে এবং অন্যান্য কাউন্সিলরদের দিয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য নানানভাবে চাপ দিতে থাকেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সামিউল ইসলামকে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক মেয়রকে সাফ জানিয়ে দেন এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার সম্ভব নয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পৌর মেয়র তার দলবল নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের আরাফাত বোর্ডিংয়ে ঢুকে ওই শিক্ষককে বেধড়ক পেটাতে থাকেন।

প্রধান শিক্ষক সামিউল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘শনিবার পৌরসভার মেয়র মোখলেসুর রহমান আমাকে ফোন করে ওই দুই ছাত্রের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন। কিন্তু আমি তাকে বলি এটা করলে নিয়ম লঙ্ঘন হবে। এসময় তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে নানা ধরেণর হুমকি প্রদান করেন। পরবর্তীতে তার লোকজন নিয়ে আরাফাত বোর্ডিংয়ে প্রবেশ করে আমাকে মারধর করে চলে যায়।’

প্রধান শিক্ষক আরও জানান, এ ঘটনায় তিনি এখন পর্যন্ত কোন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও তিনি বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান বাবুকে জানিয়েছেন। আলোচনা সাপেক্ষে এ ব্যপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বাউবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপ-আঞ্চলিক কার্যালয়ের সমন্বয়কারী শামসুজ্জামান বাবু জানান, প্রধান শিক্ষককে মারধরের বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। দাপ্তরিক কাজে ঢাকা থাকায় কোন ব্যবস্থা নিতে পারিনি। এলাকায় গিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল জানান, মারধরের পর তিনি সেখানে উপস্থিত হন এবং সেখানে উত্তেজিত অবস্থা বিরাজ করছিলো। প্রধান শিক্ষক যাতে আবার লাঞ্চিত না হয় সেজন্য লোক মারফত তাকে বাসায় পৌঁছে দেয়। এ সময় পৌর মেয়রসহ সেখানে তার লোকজন উপস্থিত ছিলো। তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে অভিযোগ করলে দলীয়ভাবে মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।এদিকে শিক্ষককে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন পৌরসভার মেয়র মোখলেসুর রহমান। তিনি বলেন, কেউ অভিযোগ করলেই তো সত্য হয়ে যায় না। এমন ঘটনায় আমি জড়িত নই। আমি কাউকে মারধর করিনি।

এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ জানান, প্রধান শিক্ষককে মারধরের বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে প্রত্যেকেরই এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ করা উচিত। যদিও এখন পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে কোন অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ এ বিষয়ে জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আমাকে কিছুই জানায়নি। তবে জানানো উচিত ছিলো। তিনি জানান, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।