প্রাথমিকের দুই শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত, পাঠদান বন্ধ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি;
  • প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২:১০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৪ সপ্তাহ আগে
ফাইল ছবি

করোনার কারণে দীর্ঘ দেড় বছর পর স্কুল খোলার কয়েকদিনের মধ্যে গোপালগঞ্জে দুই স্কুলছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন ও স্কুল কর্তৃপক্ষ বলেছে, বাড়ি বা অন্য কোনো স্থান থেকে ওই শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ওই দুই স্কুলের শ্রেণিকক্ষ দু’টি তালাবন্ধ করে দিয়েছে।

করোনা আক্রান্ত মোনালীসা ইসলাম গোপালগঞ্জ পৌরসভার শিশুবন এলাকার মাসুদ শেখের মেয়ে এবং কোটালীপাড়া উপজেলার ৪ নং ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণি ছাত্রী তিনা খানম।

গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১০২ নং বীণাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনার কারণে দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়। ওইদিন অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে পাঠদানে অংশ নিয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোনলীসা ইসলাম বীণাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ গ্রহণ শুরু করে। ১৪ সেপ্টেম্বর মোনালীসার মাথা ব্যথা ও জ্বর শুরু হয়। এরপর থেকে সে আর বিদ্যালয়ে আসেনি। পরে ২১ সেপ্টেম্বর করোনার পরীক্ষার নমুনা দেয়া হয় এবং ২২ সেপ্টেম্বর মোনালীসা ইসলামে করোনা পজেটিভ আসে।

আক্রান্ত মোনালীসার মা মিতু খানম বলেন, এতোদিন আমার মেয়ে বাড়িতে ছিলো এবং সুস্থ ছিলো। গত ১২ সেপ্টেম্বর মেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠাই, ১৪ সেপ্টেম্বর সে মাথা ব্যথা ও হালকা জ্বর অনুভব করে। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে তার বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেই। ২১ তারিখে তার জ্বর না কমায় নমুনা সংগ্রহ ক‌রে করোনা পরীক্ষা করতে দেই স্বাস্থ্য বিভাগে। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর তার করোনা পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ আসে। এরপর থেকে তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তাকে দুইদিন অক্সিজেন দেয়ার পর এখন কিছুটা শারী‌রিক উন্নতি হয়েছে। আমাদের পরিবারে অপর কোনো সদ্য করোনায় আক্রান্ত হয়নি।

বীণাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার বলেন, মোনালীসা ইসলাম সর্বশেষ ১৪ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় ক্লাস করে। সেইদিন তার মধ্যে করোনার কোনো উপসর্গ জ্বর ও মাথা ব্যথা লক্ষ্য করা যায়। এরপর তার নমুনা পরীক্ষা করলে করোনা পজেটিভ আসে। আমরা সার্বক্ষণিক তার পরিবারে সাথে যোগাযোগ রাখছি। এছাড়া সে যে কক্ষে ক্লাস করেছিলো সেই কক্ষটি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ রাখা হয়েছে। বাকি শ্রেণির ক্লাসগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে। তবে অন্য কোনো শিক্ষার্থী‌দের মধ্যে করোনার কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। আমরা শিক্ষার্থী‌দের নিয়মিত তাপমাত্রা মেপে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করাচ্ছি।

অপরদিকে, কোটালীপাড়া উপজেলার ৪ নং ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তিনা খানম অন্যান্য সহপাঠীদের সাথে স্কুরে ক্লাশ করে। পরে ওই ছাত্রী ঠাণ্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হলে ১৭ সেপ্টেম্বর পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ আসে। এরপর থেকে তাকে নিজ বাড়িতে মায়ের সাথে করেনটাইনে রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে তৃতীয় শ্রেণি ১৪ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। বাকি শ্রেণির ক্লাসগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে। এছাড়া পঞ্চম ও তৃতীয় শ্রেণির মোট ৪ জন শিক্ষার্থী ঠাণ্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুবাইয়া ইয়াসমিন বলেন, বীণাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরে আমরা ওই বিদ্যালয়টির দ্বিতীয় তলায় ২০১ নম্বার কক্ষ বন্ধ করে দেই।

গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, আক্রান্ত ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। আমরা তাকে করোনার চিকিৎসা দিচ্ছি। বর্তমানে সে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডের চিকিৎসাধীন আছে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...