ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গণপূর্ত চলছে টেন্ডার বাণিজ্য!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৮:৫৮:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩
  • / 369

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাঠের কারখানা বিভাগে চলছে টেন্ডার বাণিজ্য। এই গোপণ বা পাতানো টেন্ডারের নামে অনৈতিক লেনদেন হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা। ডিভিশনটির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী এভাবে চলতি বছরসহ গত তিন অর্থবছরে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়াও অপ্রয়োজনীয় মেরামত ও সরবরাহ কাজ, হাতেগোনা কয়েকজন ঠিকাদারকে নিয়ে সিন্ডিকেট গঠন, সার্কিটহাউজ, মডেল মসজিদ, টিটিসি প্রজেক্টসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে টেন্ডার ম্যানিপুলেশন, নিম্নমাণের কাজ করানোসহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দ লোপাট করে আসছেন এই গণপূর্ত কর্মকর্তা। প্রকৃতপক্ষে আইয়ুব আলীর ঘুষ বাণিজ্যের শ্যেনদৃষ্টিতে পড়ে ডিভিশনটি তথা গণপূর্ত অধিদপ্তর ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুন্নের শিকারে পরিনত হয়েছে।

এক অভিযোগে জানা যায়, অতি সম্প্রতি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় ১৬কোটি টাকার ফার্নিচার সরবরাহ কাজে ‘ফার্নিচার কনসেপ্ট’ নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২৬% লেসে দর দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়। কিন্তু মোটা অংকের পার্সেন্টেজ বা ঘুষ নিয়ে ওই টেন্ডারে ৩য় সর্বনিম্ন দরদাতা ‘আখতার ফার্নিচারস’ নামক প্রতিষ্ঠানকে এ কাজের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

অথচ ১ম ও ৩য় সর্বনিম্ন দরদাতার দরের ব্যবধান প্রায় দেড়কোটি টাকা। বিষয়টি জানতে পেরে গণপূর্ত ই/এম ৩নং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কালাম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবকে অবহিত করেন। মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী গত ১৫ জুন ২০২২ইং তারিখে ওই টেন্ডারটি পূণঃ মূল্যায়নের নির্দেশ দেন। পূণঃ মূল্যায়নেও ওই একই প্রতিষ্ঠানকে কাজটি পাইয়ে দেয়ার জন্য দুর্নীতিবাজ নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী বিভিন্ন ধরণের কারসাজির আশ্রয় নিচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।

অপরদিকে মডেল মসজিদ প্রকল্পে ফার্নিচার সরবরাহ নিয়ে টেন্ডার না করার জন্য অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী নির্দেশনা দিলেও শুধুমাত্র অর্থ হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশে একচেটিয়া টেন্ডার করে আসছেন গত দেড়মাস যাবৎ। এভাবে গত দুই অর্থবছরে নির্বাহী প্রকৌশলীর গোপণ ব্যবসায়িক পার্টনার জনৈক খলিলকে (স্কাইহোম নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান) প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটিকে একচেটিয়া ব্যবসা করার সুযোগ দিতে পিপিআরসহ যাবতীয় নিয়ম-নীতির লংঘন করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির নামে এখনও যে পরিমাণ কাজ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে তা সুষ্ঠুভাবে উঠানো সম্ভব নয় বলে ওই নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটির সকল কাজ অত্যন্ত নিম্নমাণের। এর জলজ্যান্ত নিদর্শন হচ্ছে হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে নবনির্মিত বিজয়-৭১ ভবনে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য নির্মিত এজলাস ভেঙ্গে পড়া।
গত মাসে বিজয়-৭১ ভবনে এজলাস ভেঙ্গে পড়ার কারণে ওই ঠিকাদারসহ ডিপার্টমেন্টের প্রধান প্রকৌশলী, ই/এম অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদেরকে বিচারপতিদের সামনে স্বশরীরে দাড়িয়ে দুঃখ প্রকাশসহ নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন প্রকল্পে সর্বনিম্নমানের কাজের কারণে ডিপার্টমেন্টের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে।

অপরদিকে, ৩৭টি সার্কিট হাউজের উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্পে ফার্নিচার সরবারাহ কাজের ২৬টি গ্রুপে ২০% লেস দিয়ে ‘হাতিল’ নোটিফিকেশন অব এওয়ার্ড বা নোয়া পায়। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশ মতো নোয়া একসেপ্ট না করে নতুনভাবে টেন্ডার করার সুযোগ দেওয়া হয়। নোয়া একসেপ্ট না করার কারণে পিপিআর অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিডমানি বা টেন্ডার সিকিউরিটি বাজেয়াপ্ত হওয়ার কথা। কিন্তু কয়েক লক্ষ টাকার ঘুষ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির টেন্ডার সিকিউরিটি ফেরৎ দেওয়া হয়েছে। ওই কাজে প্রায় ৩ কোটি টাকার ঘাপলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। উপজেলা পর্যায়ে টিটিসি স্থাপণ প্রকল্পে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ১০ কোটি টাকা এবং চলমান ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৩২ কোটি টাকার ফার্নিচার সরবরাহ দেখিয়ে ইতিমধ্যে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু বেশীরভাগ উপজেলায় এখনও ভবন তৈরীর কাজ শুরু হয়নি। কিছু অংশে ভবন তৈরী করা হলেও আনুসাঙ্গিক বেশীরভাগ কাজ এখনও বাকি।

মডেল মসজিদ প্রকল্পে পিডি ও ডিপিডিকে টাকা দিতে হবে বলে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৮% হারে ঘুষ আদায় করেন নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী। অথচ উল্লেখিত দুই কর্মকর্তা প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের সুবিধার্থে কোনভাবে পার্সেন্টেজ আদায় করা যাবে না বলে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে মোখিক নির্দেশানা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুধু তাই নয়, বাৎসরিক মরোমত রক্ষণাবেক্ষণ (এপিপি বা বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা) কাজের বরাদ্দও বিভিন্নভাবে নিজের পকেটে ভরেছেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। তার ব্যাপক অন্যায়-অনিয়মের সহযোগী অধিনস্থদের মুখ বন্ধ করার জন্য নামকাওয়াস্তে বিভিন্ন ধরণের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকেন তিনি। ২০২০ সালে ডিভিশনের পিকনিকের নামে ৪ লক্ষ টাকা দেন এই নির্বাহী প্রকৌশলী। এ টাকা এপিপি থেকে বিভিন্ন কাজের নামে ভূয়া বিল করে সমন্বয় করা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। ওই বছরের ৪ জানুয়ারি মানিকগঞ্জের নাহার গার্ডেনে কথিত এই পিকনিক অনুষ্ঠিত হয়।

অপরদিকে, ২০১৯ এ ডিভিশনটির নির্বাহী প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব নিয়েই এই কর্মকর্তা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অবস্থিত নিজ দপ্তরের ৪টি রুম রেনোভেশনের নামে প্রায় ৪৮ লক্ষ টাকা খরচ দেখান। মেহেদী এন্টারপ্রাইজ নামক একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ওই কাজ করিয়ে ঠিকাদারের কাছ থেকে নিজের পরিবারের ব্যবহারের জন্য একটি প্রাইভেট কার উপহাড় নিয়েছেন বলে গেছে গেছে। সংসদ সচিবালয়ের অনুমতি ব্যতিত ভেতরের কক্ষগুলো ভাঙ্গাচোরা করার কারণে বিখ্যাত স্থপতি লুই আইকানের নকশা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে ওই সময়ে কতিপয় ঠিকাদার অভিযোগ তুলেছিলো।

বিগত তিন অর্থবছরে ডিভিশনটিতে স্কাইহােম ছাড়াও লামিয়া এন্টারপ্রাইজ আরকে এন্টারপ্রাইজ, মেরি কনস্ট্রাকশন, উপমা এন্ড কোম্পানী, ইয়াকিন এন্টারপ্রাইজ, আবিদ এন্টারপ্রাইজ ও চঞ্চল এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকৌশলী আইয়ুব আলী ডিভিশনের প্রায় ৮০ঃ% কাজ দিয়েছেন। এর বিনিময়ে সর্বনিম্ন ৫% থেকে শুরু করে ১০% ক্ষেত্রবিশেষ ১২% নগদনারায়ণ নিয়ে ২০ কোটিরও অধিক টাকা লোপাট করেছেন প্রকৌশলী আইয়ুব আলী।

এই বিষয়ে প্রকৌশলীদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গণপূর্ত চলছে টেন্ডার বাণিজ্য!

আপডেট : ০৮:৫৮:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাঠের কারখানা বিভাগে চলছে টেন্ডার বাণিজ্য। এই গোপণ বা পাতানো টেন্ডারের নামে অনৈতিক লেনদেন হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা। ডিভিশনটির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী এভাবে চলতি বছরসহ গত তিন অর্থবছরে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়াও অপ্রয়োজনীয় মেরামত ও সরবরাহ কাজ, হাতেগোনা কয়েকজন ঠিকাদারকে নিয়ে সিন্ডিকেট গঠন, সার্কিটহাউজ, মডেল মসজিদ, টিটিসি প্রজেক্টসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে টেন্ডার ম্যানিপুলেশন, নিম্নমাণের কাজ করানোসহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দ লোপাট করে আসছেন এই গণপূর্ত কর্মকর্তা। প্রকৃতপক্ষে আইয়ুব আলীর ঘুষ বাণিজ্যের শ্যেনদৃষ্টিতে পড়ে ডিভিশনটি তথা গণপূর্ত অধিদপ্তর ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুন্নের শিকারে পরিনত হয়েছে।

এক অভিযোগে জানা যায়, অতি সম্প্রতি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় ১৬কোটি টাকার ফার্নিচার সরবরাহ কাজে ‘ফার্নিচার কনসেপ্ট’ নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২৬% লেসে দর দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়। কিন্তু মোটা অংকের পার্সেন্টেজ বা ঘুষ নিয়ে ওই টেন্ডারে ৩য় সর্বনিম্ন দরদাতা ‘আখতার ফার্নিচারস’ নামক প্রতিষ্ঠানকে এ কাজের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

অথচ ১ম ও ৩য় সর্বনিম্ন দরদাতার দরের ব্যবধান প্রায় দেড়কোটি টাকা। বিষয়টি জানতে পেরে গণপূর্ত ই/এম ৩নং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কালাম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবকে অবহিত করেন। মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী গত ১৫ জুন ২০২২ইং তারিখে ওই টেন্ডারটি পূণঃ মূল্যায়নের নির্দেশ দেন। পূণঃ মূল্যায়নেও ওই একই প্রতিষ্ঠানকে কাজটি পাইয়ে দেয়ার জন্য দুর্নীতিবাজ নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী বিভিন্ন ধরণের কারসাজির আশ্রয় নিচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।

অপরদিকে মডেল মসজিদ প্রকল্পে ফার্নিচার সরবরাহ নিয়ে টেন্ডার না করার জন্য অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী নির্দেশনা দিলেও শুধুমাত্র অর্থ হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশে একচেটিয়া টেন্ডার করে আসছেন গত দেড়মাস যাবৎ। এভাবে গত দুই অর্থবছরে নির্বাহী প্রকৌশলীর গোপণ ব্যবসায়িক পার্টনার জনৈক খলিলকে (স্কাইহোম নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান) প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটিকে একচেটিয়া ব্যবসা করার সুযোগ দিতে পিপিআরসহ যাবতীয় নিয়ম-নীতির লংঘন করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির নামে এখনও যে পরিমাণ কাজ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে তা সুষ্ঠুভাবে উঠানো সম্ভব নয় বলে ওই নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটির সকল কাজ অত্যন্ত নিম্নমাণের। এর জলজ্যান্ত নিদর্শন হচ্ছে হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে নবনির্মিত বিজয়-৭১ ভবনে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য নির্মিত এজলাস ভেঙ্গে পড়া।
গত মাসে বিজয়-৭১ ভবনে এজলাস ভেঙ্গে পড়ার কারণে ওই ঠিকাদারসহ ডিপার্টমেন্টের প্রধান প্রকৌশলী, ই/এম অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদেরকে বিচারপতিদের সামনে স্বশরীরে দাড়িয়ে দুঃখ প্রকাশসহ নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন প্রকল্পে সর্বনিম্নমানের কাজের কারণে ডিপার্টমেন্টের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে।

অপরদিকে, ৩৭টি সার্কিট হাউজের উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্পে ফার্নিচার সরবারাহ কাজের ২৬টি গ্রুপে ২০% লেস দিয়ে ‘হাতিল’ নোটিফিকেশন অব এওয়ার্ড বা নোয়া পায়। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশ মতো নোয়া একসেপ্ট না করে নতুনভাবে টেন্ডার করার সুযোগ দেওয়া হয়। নোয়া একসেপ্ট না করার কারণে পিপিআর অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিডমানি বা টেন্ডার সিকিউরিটি বাজেয়াপ্ত হওয়ার কথা। কিন্তু কয়েক লক্ষ টাকার ঘুষ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির টেন্ডার সিকিউরিটি ফেরৎ দেওয়া হয়েছে। ওই কাজে প্রায় ৩ কোটি টাকার ঘাপলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। উপজেলা পর্যায়ে টিটিসি স্থাপণ প্রকল্পে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ১০ কোটি টাকা এবং চলমান ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৩২ কোটি টাকার ফার্নিচার সরবরাহ দেখিয়ে ইতিমধ্যে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু বেশীরভাগ উপজেলায় এখনও ভবন তৈরীর কাজ শুরু হয়নি। কিছু অংশে ভবন তৈরী করা হলেও আনুসাঙ্গিক বেশীরভাগ কাজ এখনও বাকি।

মডেল মসজিদ প্রকল্পে পিডি ও ডিপিডিকে টাকা দিতে হবে বলে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৮% হারে ঘুষ আদায় করেন নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী। অথচ উল্লেখিত দুই কর্মকর্তা প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের সুবিধার্থে কোনভাবে পার্সেন্টেজ আদায় করা যাবে না বলে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে মোখিক নির্দেশানা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুধু তাই নয়, বাৎসরিক মরোমত রক্ষণাবেক্ষণ (এপিপি বা বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা) কাজের বরাদ্দও বিভিন্নভাবে নিজের পকেটে ভরেছেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। তার ব্যাপক অন্যায়-অনিয়মের সহযোগী অধিনস্থদের মুখ বন্ধ করার জন্য নামকাওয়াস্তে বিভিন্ন ধরণের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকেন তিনি। ২০২০ সালে ডিভিশনের পিকনিকের নামে ৪ লক্ষ টাকা দেন এই নির্বাহী প্রকৌশলী। এ টাকা এপিপি থেকে বিভিন্ন কাজের নামে ভূয়া বিল করে সমন্বয় করা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। ওই বছরের ৪ জানুয়ারি মানিকগঞ্জের নাহার গার্ডেনে কথিত এই পিকনিক অনুষ্ঠিত হয়।

অপরদিকে, ২০১৯ এ ডিভিশনটির নির্বাহী প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব নিয়েই এই কর্মকর্তা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অবস্থিত নিজ দপ্তরের ৪টি রুম রেনোভেশনের নামে প্রায় ৪৮ লক্ষ টাকা খরচ দেখান। মেহেদী এন্টারপ্রাইজ নামক একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ওই কাজ করিয়ে ঠিকাদারের কাছ থেকে নিজের পরিবারের ব্যবহারের জন্য একটি প্রাইভেট কার উপহাড় নিয়েছেন বলে গেছে গেছে। সংসদ সচিবালয়ের অনুমতি ব্যতিত ভেতরের কক্ষগুলো ভাঙ্গাচোরা করার কারণে বিখ্যাত স্থপতি লুই আইকানের নকশা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে ওই সময়ে কতিপয় ঠিকাদার অভিযোগ তুলেছিলো।

বিগত তিন অর্থবছরে ডিভিশনটিতে স্কাইহােম ছাড়াও লামিয়া এন্টারপ্রাইজ আরকে এন্টারপ্রাইজ, মেরি কনস্ট্রাকশন, উপমা এন্ড কোম্পানী, ইয়াকিন এন্টারপ্রাইজ, আবিদ এন্টারপ্রাইজ ও চঞ্চল এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকৌশলী আইয়ুব আলী ডিভিশনের প্রায় ৮০ঃ% কাজ দিয়েছেন। এর বিনিময়ে সর্বনিম্ন ৫% থেকে শুরু করে ১০% ক্ষেত্রবিশেষ ১২% নগদনারায়ণ নিয়ে ২০ কোটিরও অধিক টাকা লোপাট করেছেন প্রকৌশলী আইয়ুব আলী।

এই বিষয়ে প্রকৌশলীদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।